গাবুলে, উষ্ণ প্রকৃতির একটি পুষ্টিকর খাবার।
ইরানিদের খাদ্যাভ্যাসে সকালের নাশতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। বিশেষ করে যখন মানুষ কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকত, তখন সকালের নাশতার গুরুত্ব আরও বেশি ছিল। কারণ এটি এমন পুষ্টিকর হওয়া দরকার ছিল, যাতে কঠিন পরিশ্রমের জন্য শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায়।
এই কারণে ইরানের বিভিন্ন শহরে এমন অনেক পুষ্টিকর খাবার রয়েছে, যেগুলো সকালের নাশতা হিসেবে খাওয়া হয়। গাবুলে তেমনই একটি খাবার, যা কাজেরুনের মানুষ স্বাস্থ্যকর, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর নাশতা হিসেবে খেয়ে থাকেন।
গাবুলে একটি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার, যা রান্না করা খুব কঠিন নয় এবং বেশি সময়ও লাগে না।
গাবুলে রান্নার উপকরণ
- গমের আটা: ১ কাপ
- শুকনো বাবুনা ফুল (ক্যামোমাইল): ১ ছোট গ্লাস
- হলুদ: ২ টেবিল চামচ
- চিনি: দেড় ছোট গ্লাস
- তেল: প্রয়োজন অনুযায়ী
গমের আটার পরিবর্তে চাইলে যবের আটা ব্যবহার করতে পারেন। শরীরের প্রয়োজনীয় আঁশ পাওয়ার জন্য ভুসিযুক্ত আটা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। গাবুলেতে সামান্য বাদামের কুচি, আখরোট ও কোকো পাউডার যোগ করা যেতে পারে।
বাবুনা ফুল শুধু খাবারে স্বাদ যোগ করে না, এর অনেক ঔষধি গুণও রয়েছে। গাবুলেতে বাবুনা থাকার কারণে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য উপকারী এবং সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত মানুষের জন্য একটি উপযুক্ত খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বাবুনার উষ্ণ প্রকৃতির কারণে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি খুব বেশি সুপারিশ করা হয় না, কারণ অতিরিক্ত ব্যবহার রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
কখনও কখনও খাবারে স্বাদ বাড়ানোর জন্য দারুচিনির গুঁড়া ও গোলমরিচের গুঁড়াও ব্যবহার করা হয়। এগুলো ব্যবহার করতে চাইলে হলুদের সঙ্গে একসঙ্গে খাবারে যোগ করুন।
গাবুলে রান্নার পদ্ধতি
হয়তো আপনি ভাবছেন, অন্যান্য ইরানি খাবারের মতো এই খাবারেও প্রথমে পেঁয়াজ ভাজা দিয়ে কাজ শুরু হবে। কিন্তু এই খাবারে কোনো পেঁয়াজ ব্যবহার করা হয় না। শুরুতেই আটা ভেজে নিতে হবে।
এর জন্য একটি উপযুক্ত প্যান নিন এবং তাতে আটা ঢেলে দিন। এরপর অল্প আঁচে নাড়তে নাড়তে ভাজুন, যতক্ষণ না আটার রং একটু পরিবর্তন হয়ে হালকা বাদামি হয়। তবে খেয়াল রাখবেন, আটা যেন বেশি ভাজা না হয়। আটা ভাজার ফলে খাবারের স্বাদ ভালো হয়, আটার গঠন আরও মসৃণ হয় এবং কাঁচা আটার গন্ধ দূর হয়। ভাজার পর আটাকে এক পাশে রেখে ঠান্ডা হতে দিন। আটা ঠান্ডা হয়ে গেলে ঠান্ডা পানিতে তা মিশিয়ে নিন এবং এতে হলুদ ও বাবুনা ফুল যোগ করুন। পানির পরিমাণ ব্যবহৃত আটার দ্বিগুণ হওয়া উচিত। উপকরণগুলো ভালোভাবে নাড়ুন। নাড়ার সময় যদি আটায় দলা তৈরি হয়, তাহলে সেগুলো ভেঙে দিন, যাতে মিশ্রণটি একদম মসৃণ হয়।
ভালোভাবে মেশানোর পর মিশ্রণটি কিছুটা ঘন হয়ে যাবে। তখন এটি চুলায় বসিয়ে সামান্য রান্না করতে হবে। রান্নার সময় এতে চিনি ও তেল যোগ করুন এবং নাড়তে থাকুন। গাবুলে খুব বেশি ঘন হওয়া উচিত নয়। যখন এটি ঘন মিশ্রণের মতো অবস্থায় আসবে, তখন এটি পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।
গাবুলে পরিবেশনের পদ্ধতি
গাবুলে ঠান্ডা বা গরম দুইভাবেই পরিবেশন করা যায়। পরিবেশনের সময় এতে সামান্য চিনি যোগ করা যেতে পারে। তবে অনেক সময় গাবুলে রান্নার সময় চিনি দেওয়া হয় না, বরং প্রত্যেকে নিজের স্বাদ অনুযায়ী খাওয়ার সময় এটি মিষ্টি করে নেন। গাবুলে রুটির সঙ্গে খেতে পারেন। যেহেতু এটি সাধারণত সকালের নাশতা হিসেবে খাওয়া হয়, তাই এর সঙ্গে চা একটি জনপ্রিয় পানীয়। গাবুলে সাজানোর জন্য বাদাম, পেস্তা ও আখরোট ব্যবহার করা যেতে পারে। শীতের ঠান্ডা দিনে গাবুলে খেতে বেশি ভালো লাগে, তবে গরমকালেও এটি খাওয়া হয়। এছাড়াও গাবুলেকে মিষ্টান্ন (ডেজার্ট) হিসেবেও পরিবেশন করা যায়।
| গাবুলে, উষ্ণ প্রকৃতির একটি পুষ্টিকর খাবার। | |
| ফার্স | |
| Dessert and side dish | |
| Registration | No registration |



