এজেন্সি
শিরাজি সালাদ, ইরানি খাবারের সুস্বাদু সঙ্গী।

শিরাজি সালাদ, ইরানি খাবারের সুস্বাদু সঙ্গী।

শিরাজি সালাদ, ইরানি খাবারের সুস্বাদু সঙ্গী।

ইরানের মানুষের একটি প্রচলিত অভ্যাস হলো পারিবারিকভাবে একসঙ্গে খাবার খাওয়া। সাধারণত পরিবারগুলো খাবার খাওয়ার সময় একত্রিত হয় এবং পরিবারের কোনো একজন সদস্য উপস্থিত না থাকলে, তার আসা পর্যন্ত তারা খাওয়া শুরু করে না।

অধিকাংশ ইরানি মানুষ খাবার খাওয়ার সময় মেঝেতে বসেন এবং সোফরে নামে পরিচিত একটি বিশেষ কাপড় বিছিয়ে তার ওপর খাবার ও সেই খাবারের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য সাজিয়ে রাখেন।

ইরানিরা খাবারের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সালাদ, পানীয় ও চাটনি ব্যবহার করে তাদের খাবারের আয়োজনকে আরও বর্ণিল করে তোলেন। দুগ (এক ধরনের টক দইয়ের পানীয়), দই, কাঁচা পেঁয়াজ, তাজা শাকসবজি এবং বিভিন্ন সালাদ এসব খাবারের সঙ্গে পরিবেশনের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় উপকরণগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এর মধ্যে শিরাজি সালাদ অন্যতম জনপ্রিয় সালাদ, যা অধিকাংশ ইরানি খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয় এবং খাবার খাওয়ার আনন্দকে আরও দ্বিগুণ করে তোলে।

যেমনটি এই সালাদের নাম থেকেই বোঝা যায়, শিরাজ হলো এর মূল উৎপত্তিস্থল। শিরাজি সালাদকে যেমন পূর্বপদ (অ্যাপেটাইজার) হিসেবে খাওয়া যায়, তেমনি খাবার খাওয়ার সময় বা খাবারের পরও খাওয়া যেতে পারে।

হয়তো মনে হতে পারে, এই সালাদে শসা এবং টক স্বাদের উপকরণ ব্যবহার করা হয় বলে এটি গ্রীষ্মকালে বেশি জনপ্রিয় হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে সারা বছরজুড়েই এটি ইরানিদের খাবারের টেবিলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সালাদ হিসেবে উপস্থিত থাকে!

আসলে শিরাজি সালাদ পুরো ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলের খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিতে পেরেছে এবং ইরানিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে!

শিরাজি সালাদ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • শসা: ৩টি
  • টমেটো: ২টি
  • পেঁয়াজ: ১টি
  • কুচি করা শুকনো পুদিনা, লবণ ও গোলমরিচ: প্রয়োজনমতো
  • আঙুরের টক রস (আবগুরে): ১ কাপ

সালাদের জন্য ব্যবহৃত শসা চাইলে খোসা ছাড়িয়ে নিতে পারেন অথবা খোসাসহ ব্যবহার করতে পারেন।

সালাদে শুকনো বা তাজা পার্সলি পাতা এবং অলিভ অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন। তবে এগুলো সম্পূর্ণ আপনার স্বাদের ওপর নির্ভর করে, ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়।

যদি সালাদে অলিভ অয়েল যোগ করতে চান, তাহলে দুই থেকে তিন টেবিল-চামচ পরিমাণই যথেষ্ট।

শিরাজি সালাদ তৈরির পদ্ধতি

১. শসা, টমেটো ও পেঁয়াজ কেটে একটি বড় বাটিতে রাখুন। শিরাজি সালাদ তৈরির প্রায় পুরো প্রক্রিয়াই এই ধাপের মধ্যে সম্পন্ন হয়। তাই খেয়াল রাখবেন, সব উপকরণ যতটা সম্ভব ছোট ছোট করে কাটবেন। তবে মনে রাখবেন, উপকরণগুলো কখনোই কুরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না, কারণ এতে সেগুলো নরম হয়ে যায় এবং প্রতিটি উপকরণের বিশেষ স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। অথচ শিরাজি সালাদে এই তিনটি উপকরণের (শসা, টমেটো ও পেঁয়াজ) স্বাদ আলাদাভাবে বজায় থাকা প্রয়োজন।

কখনো কখনো শিরাজি সালাদের মূল তিনটি উপকরণ শসা, টমেটো ও পেঁয়াজের সঙ্গে পেঁয়াজকলি ও ক্যাপসিকাম (বেল পেপার) যোগ করা হয়।

২. পরবর্তী ধাপে মিশ্রণের মধ্যে কিছুটা শুকনো পুদিনা ও পার্সলি যোগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। যদি তাজা পার্সলি পাতা ব্যবহার করেন, তাহলে যোগ করার আগে তা কুচি করে নিন। আর যদি শুকনো পার্সলি পাতা ব্যবহার করেন, তাহলে ভালোভাবে গুঁড়া বা কুচি করে নিন। কখনো কখনো পুদিনার পরিবর্তে পুদিনা জাতীয় আরেক ধরনের সুগন্ধি পাতা (পোনে) ব্যবহার করা হয়।

৩. উপকরণগুলো মেশানোর পর এতে আঙুরের টক রস (আবগুরে), লবণ ও গোলমরিচ যোগ করুন।

আবগুরে হলো শিরাজি সালাদের স্বাদ দেওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। তবে যদি আবগুরে না পাওয়া যায়, তাহলে এর পরিবর্তে লেবুর রস বা ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন।

৪. যদি সালাদে অলিভ অয়েল যোগ করতে চান, তাহলে এখনই যোগ করার সময়।

শিরাজি সালাদ পরিবেশনের পদ্ধতি

শিরাজি সালাদ পরিবেশনের এক ঘণ্টা আগে এটি ফ্রিজে রেখে দেওয়া ভালো, যাতে উপকরণ ও স্বাদদাতার স্বাদ ভালোভাবে মিশে যায়।

পরিবেশনের জন্য সালাদটি কয়েকটি ছোট বাটিতে ভাগ করে দিন। চাইলে টমেটো, শসা, পেঁয়াজ বা ক্যাপসিকাম দিয়ে শিরাজি সালাদ সাজাতে পারেন।

শিরাজি সালাদ শুধু এর মনোরম স্বাদের জন্যই নয়, বরং এর রঙের বৈচিত্র্যের কারণেও ইরানিদের খাবারের টেবিলে বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং এটি খাবারের আয়োজন সাজানোর অন্যতম উপাদান হিসেবেও বিবেচিত হয়।

 

 

শিরাজি সালাদ, ইরানি খাবারের সুস্বাদু সঙ্গী।
ফার্স
Dessert and side dish
Registration

ইসলামিক কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশন হল ইরানি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যেটি সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের সাথে অধিভুক্ত; এবং 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[আরও]

:

:

:

: