এজেন্সি
কেরমানশাহের ফুলের উদ্যান মাটির ওপর আঁকা এক বিশাল চিত্রকর্ম

কেরমানশাহের ফুলের উদ্যান মাটির ওপর আঁকা এক বিশাল চিত্রকর্ম

কেরমানশাহের ফুলের উদ্যান মাটির ওপর আঁকা এক বিশাল চিত্রকর্ম

মানুষ যখন কৃষিকাজের কৌশল আয়ত্ত করতে শুরু করে, তখন তার সৌন্দর্যপ্রিয় স্বভাবের কারণে ফুল ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ চাষের প্রতিও আগ্রহী হয়ে ওঠে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক শহরেই বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষ ও প্রদর্শনের জন্য বিশেষায়িত উদ্যান রয়েছে। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের কেরমানশাহ শহরে এমনই একটি বড় উদ্যান রয়েছে, যার নাম "কেরমানশাহের ফুলের উদ্যান"। বর্তমানে এই ফুলের উদ্যানটি কেরমানশাহের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক এই উদ্যানটি দেখতে শহরটিতে ভ্রমণ করেন।

কেরমানশাহের ফুলের উদ্যানের ভূগোল ও ইতিহাস

কেরমানশাহের ফুলের উদ্যান প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ধারণা উত্থাপিত হয় ২০১২ সালে (১৩৯১ হিজরি শামসি)। এরপর প্রায় দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ চলার পর উদ্যানটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হয়। কেরমানশাহ শহরের ভৌগোলিক অবস্থান এবং জাগরোস পর্বতমালার পাশে অবস্থিত হওয়া এই ফুলের উদ্যান গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ। শহরটির জলবায়ু মাঝারি ধরনের পাহাড়ি এবং ইতিহাসজুড়ে এটি ইরানের শাসক ও রাজাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমি আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ইতিহাসে কেরমানশাহকে সাসানীয় রাজাদের (তৃতীয় থেকে সপ্তম শতাব্দী খ্রিস্টাব্দ) অন্যতম রাজকীয় আবাসস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঞ্চলের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ৪৫৬.৮ মিলিমিটার। কেরমানশাহের জলবায়ু ও বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতার কারণে শহরের আশপাশের এলাকাগুলো ঘাসভূমি ও বনাঞ্চলে সমৃদ্ধ হয়েছে। শহরের চারদিকে উঁচু পাহাড় রয়েছে, যার মধ্যে প্রাভ (পারাউ) পর্বত সর্বোচ্চ; এর উচ্চতা প্রায় ,৩৫৭ মিটার

কেরমানশাহের ফুলের উদ্যানের মোট আয়তন প্রায় ৫.৩ হেক্টর। এখানে একটি বড় জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে একটি বিশাল ফোয়ারা রয়েছে। এই জলাধার ও ফোয়ারার উপস্থিতি ইরানি উদ্যানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ইরানি উদ্যান বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত এবং এর কিছু নিদর্শন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কেরমানশাহের ফুলের উদ্যানের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যে, মনে হয় বিশাল আকারের একটি চিত্রকর্ম যেন মাটির ওপর আঁকা হয়েছে।

কেরমানশাহের ফুলের উদ্যানের বিভিন্ন অংশ

কেরমানশাহের ফুলের উদ্যানের বিভিন্ন অংশে ইরানি, জাপানি, ফরাসি ও ইতালীয় ফুল ও উদ্ভিদ চাষ করা হয়েছে। এই উদ্যান পরিদর্শন করলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ,০০০ প্রজাতির উদ্ভিদ দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩০০ ধরনের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ এবং ১০০ ধরনের ক্যাকটাস। উদ্যানে ব্যবহৃত অধিকাংশ বীজই ডাচ জাতের বীজ। উদ্যানের অন্যান্য আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে ক্যাকটাস প্রদর্শনী, কয়েকটি ছোট জলাশয়, ঘাসে ঢাকা টিলা, মৌসুমি ফুলের বাগান, অ্যাকোয়ারিয়াম, পাথুরে বাগান এবং ইংরেজি বাগান। উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের বিশ্রাম ও কিছুক্ষণ সময় কাটানোর জন্য আলাচিক (ছোট ছাউনিযুক্ত বসার স্থান) তৈরি করা হয়েছে। শান্ত পরিবেশে এসব ছাউনিতে বসে রঙিন ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। কেরমানশাহের ফুলের উদ্যানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন রয়েছে। এর একটি হলো বাগানের কুশক (Kushk) এবং অন্যটি একটি শিক্ষা কমপ্লেক্স। শিক্ষা কমপ্লেক্সে বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতি সংগ্রহ, গবেষণা ও সংরক্ষণের কাজ পরিচালিত হয়। কেরমানশাহের ফুলের উদ্যান প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ সংরক্ষণের সংস্কৃতি উন্নত করা। এই লক্ষ্যেই শিশুদের জন্যও একটি বিশেষ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যাতে তারা উদ্যানে এসে প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার নীতিগুলো সম্পর্কে শিক্ষা নিতে পারে।

কেরমানশাহের ফুলের উদ্যানটি শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে "কেরমানশাহ বাইপাস" নামে পরিচিত সড়কের পাশে এবং সিনা হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত। এখানে পর্যটকদের জন্য প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। বিশেষ কিছু দিনে যখন উদ্যানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায়, তখন পর্যটন গাইডরা উদ্যানে থাকা বিভিন্ন ফুল ও উদ্ভিদ সম্পর্কে তথ্য ও শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। উদ্যানের আশপাশে আরও কয়েকটি বিনোদনমূলক আকর্ষণ থাকায় এখানে ভ্রমণের আনন্দ আরও বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো "সাদাফ পাখির উদ্যান" এবং "শিরিন পার্ক"। এসব আকর্ষণের মধ্যে সাদাফ পাখির উদ্যান কেরমানশাহের ফুলের উদ্যান থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে অবস্থিত। প্রায় ২ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই পাখির উদ্যানে ২০১১ সাল (১৩৯০ হিজরি শামসি) থেকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত ১৩০ প্রজাতির ৩০ হাজারেরও বেশি পাখি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটি দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ পাখি সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

কেরমানশাহের ফুলের উদ্যান মাটির ওপর আঁকা এক বিশাল চিত্রকর্ম
কেরমানশাহ
কেরমানশাহ
Natural
RegistrationNo registration

ইসলামিক কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশন হল ইরানি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যেটি সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের সাথে অধিভুক্ত; এবং 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[আরও]

:

:

:

: