মির্জা কাসেমি, এমন একটি খাবার যা নিরামিষভোজীরা পছন্দ করেন।
মির্জা কাসেমি একটি জনপ্রিয় ইরানি খাবার, যা নিরামিষভোজীরাও খেতে পারেন। ইরানে এটি উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে পরিচিত এবং এর উৎপত্তি গিলান প্রদেশে। তবে বর্তমানে এটি সারা ইরানেই সমান জনপ্রিয়। অনেক জায়গায় এটি প্রধান খাবারের আগে মুখরোচক পদ (অ্যাপেটাইজার) হিসেবেও পরিবেশন করা হয়।
মির্জা কাসেমির ইতিহাস
ধারণা করা হয়, কাজার আমলে (আঠারো ও উনিশ শতকে) প্রথম মির্জা কাসেমি রান্না করা হয়। স্থানীয় মানুষের মতে, রাশত শহরের (গিলান প্রদেশের রাজধানী) তৎকালীন গভর্নর মোহাম্মদ কাসেম খান প্রথম এই খাবার তৈরি করেন। তাঁর নাম অনুসারেই খাবারটির নাম রাখা হয় মির্জা কাসেমি। পরে একই রান্নার পদ্ধতি সারা ইরানে ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়েই এটি সবার প্রিয় খাবারে পরিণত হয়।
মির্জা কাসেমি তৈরির উপকরণ
অনেক ইরানি খাবার রান্না করতে বেশ সময় লাগে, কিন্তু মির্জা কাসেমি তার ব্যতিক্রম। একে চাইলে ইরানের একটি স্বাস্থ্যকর ফাস্ট ফুডও বলা যায়। কারণ এটি দ্রুত তৈরি করা যায় এবং সম্পূর্ণ সবজি দিয়ে রান্না করা হয়। শুধু স্বাস্থ্যকরই নয়, এর উপকরণও সহজলভ্য ও তুলনামূলক সস্তা।
চারজনের জন্য প্রয়োজন হবে—
- বেগুন – ৬টি (মাঝারি আকারের)
- রসুন – ৫ কোয়া
- টমেটো – ২ থেকে ৩টি
- ডিম – ২ থেকে ৩টি
- তেল – এক-তৃতীয়াংশ কাপ
- হলুদের গুঁড়ো – ১ চা-চামচ
- লবণ – স্বাদমতো
- গোলমরিচ – স্বাদমতো
- সাজানোর জন্য ধনেপাতা বা পুদিনাপাতা – পরিমাণমতো
যদি মাঝারি আকারের বেগুন ব্যবহার করেন, তাহলে ৬টিই যথেষ্ট। তবে বেগুন ছোট হলে আরও কয়েকটি নিতে হবে। মনে রাখবেন, মির্জা কাসেমি রান্নার সময় বেগুনের খোসা ছাড়ানো হয় না। রসুন এই খাবারের স্বাদ অনেক বাড়িয়ে দেয়। রসুন কুচি করে বা কুরিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে থেঁতোও করা যায়, তবে কুচি বা কুরিয়ে ব্যবহার করাই ভালো।
টমেটোও মাঝারি আকারের নিন এবং রান্না শুরুর আগে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে রাখুন। টমেটোর খোসা আগে ছাড়িয়ে নিলে পরে খাওয়ার সময় খোসা আলাদা করতে হবে না। খোসা সহজে ছাড়াতে চাইলে টমেটোর নিচের দিকে ছুরি দিয়ে ছোট একটি ক্রস (×) চিহ্নের মতো কেটে নিন। এতে খোসা তুলতে সুবিধা হবে।
মির্জা কাসেমি রান্নার পদ্ধতি
ধাপ ১: বেগুন পোড়ানো
প্রথমে বেগুনগুলো ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর কয়লার আগুনে বা গ্যাসের চুলায় সেগুলো পোড়ান। বেগুনের খোসা হালকা পুড়ে গেলে এবং ভেতরটা নরম হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। তারপর খোসা ছাড়িয়ে আলাদা করে রাখুন। খেয়াল রাখবেন, বেগুন বেশি সময় আগুনে রাখলে অতিরিক্ত ধোঁয়ার গন্ধ ধরে যেতে পারে, যা সবার পছন্দ নাও হতে পারে।
ধাপ ২: মসলা ও সবজি রান্না
একটি পাত্রে তেল গরম করে রসুন ও হলুদের গুঁড়ো হালকা ভেজে নিন। রসুন সোনালি রঙ ধারণ করলে খোসা ছাড়ানো বেগুন যোগ করে ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে নিন। ইচ্ছা করলে এই ধাপে তেলের পরিবর্তে মাখনও ব্যবহার করতে পারেন।
কয়েক মিনিট পর কাটা টমেটো, লবণ ও গোলমরিচ দিয়ে মিশিয়ে নিন। এরপর পাত্রের ঢাকনা লাগিয়ে কম আঁচে প্রায় ১৫ মিনিট রান্না করুন। মাঝেমধ্যে ঢাকনা খুলে নেড়ে দিন, যাতে নিচে লেগে না যায়। যদি গাঢ় রঙের মির্জা কাসেমি পছন্দ করেন, তাহলে এই সময় অল্প পরিমাণ টমেটো পেস্ট যোগ করতে পারেন।
ধাপ ৩: ডিম যোগ করা
মিশ্রণটি যখন শুকিয়ে আসবে এবং অতিরিক্ত পানি থাকবে না, তখন ডিম যোগ করার সময়। আপনি যদি নিরামিষভোজী হন এবং প্রাণিজ খাবার না খান, তাহলে ডিম না দিয়েও এই খাবার রান্না করতে পারেন।
ডিমগুলো আগে একটি বাটিতে ভেঙে লবণ ও গোলমরিচ দিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। তারপর বেগুন-টমেটোর মিশ্রণে ঢেলে নাড়তে থাকুন, যাতে ডিম ভালোভাবে মিশে সেদ্ধ হয়ে যায়।
এভাবেই আপনার মির্জা কাসেমি প্রস্তুত।
অন্যভাবে চাইলে ডিম আলাদা করে না ফেটিয়ে সরাসরি রান্নার পাত্রে ভেঙেও দিতে পারেন। অনেকে ডিম না নেড়ে পুরো অবস্থায়ই মির্জা কাসেমির ওপর ভেঙে দেন। সে ক্ষেত্রে কয়েক মিনিট ঢাকনা দিয়ে রেখে দিন, যাতে ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে যায়।
পরিবেশন
সাধারণত একটি প্লেটে মির্জা কাসেমি পরিবেশন করা হয় এবং ওপরে পুদিনাপাতা বা ধনেপাতা দিয়ে সাজানো হয়।
এটি মুখরোচক পদ (অ্যাপেটাইজার) হিসেবেও পরিবেশন করা যায়, আবার প্রধান খাবার হিসেবেও রুটি বা ভাতের সঙ্গে খাওয়া যায়।
সবচেয়ে সুস্বাদু লাগে ইরানের ঐতিহ্যবাহী সাংগাক রুটি দিয়ে খেতে। তবে অন্য যেকোনো রুটি দিয়েও এটি উপভোগ করা যায়। মির্জা কাসেমির সঙ্গে সাধারণত কাঁচা শাক-সবজি, দই, লেটুসের সালাদ, শিরাজি সালাদ এবং কুচি করা শসা পরিবেশন করা হয়। স্বাস্থ্যকর সবজি দিয়ে তৈরি হওয়ায় এবং সহজ রান্নার পদ্ধতির কারণে মির্জা কাসেমি একটি পুষ্টিকর খাবার। ডিম ছাড়া রান্না করলে এটি নিরামিষভোজীদের জন্যও উপযুক্ত।
| মির্জা কাসেমি, এমন একটি খাবার যা নিরামিষভোজীরা পছন্দ করেন। | |
| গুইলান | |
| Meal | |
| Registration |

