আরিস: সুস্বাদু এক খাবার, যা হয়তো তাবরিজের সবচেয়ে প্রাচীন মিষ্টি
এটা সত্য যে, তাবরিজ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন আকর্ষণের জন্য বিখ্যাত। তবে কোনো পর্যটকই এই শহরের বিশেষ ও সুস্বাদু মিষ্টিগুলোর স্বাদ না নিয়ে তাবরিজ ছেড়ে যেতে চান না। তাবরিজে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পাওয়া যায়। এর মধ্যে "আরিস" অন্যতম বিখ্যাত।
এই সুস্বাদু মিষ্টি তার স্মরণীয় স্বাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের তৈরি করা হয়:
- তসবিহি,
- দুধি,
- মচমচে (তরদ),
- কোকো স্বাদের।
তসবিহি ধরনের আরিস ছাড়া বাকি তিন ধরনের মিষ্টি সাধারণভাবেও এবং পেস্তাযুক্ত করেও তৈরি করা হয়।
আরিস সাধারণত আয়তাকার ঘনক (লম্বাটে চৌকো টুকরো) আকারে তৈরি করা হয়। সাধারণত মিষ্টির দোকানগুলোতে এটি স্বচ্ছ প্লাস্টিকের মোড়কে প্যাক করা থাকে। এই সরল ও স্বচ্ছ আকৃতিই যেকোনো দর্শকের রুচি ও আগ্রহ বাড়িয়ে দিতে পারে!
এখানে আমরা আপনাদের জন্য এই মিষ্টি তৈরির পদ্ধতি ব্যাখ্যা করছি, যাতে ইচ্ছা করলে আপনারা বাড়িতেও এটি তৈরি করতে পারেন। যদিও তাবরিজ ভ্রমণ করে এই সুন্দর শহরের পরিবেশে বসে আরিস খাওয়ার আনন্দের কোনো বিকল্প নেই!
আরিসের স্বাদ অনেকটা টফির মতো। তবে রান্নার পদ্ধতিতে সামান্য পার্থক্য এবং গোলাপজল ব্যবহারের কারণে এর স্বাদ টফির থেকে আলাদা হয়ে যায়।
তাবরিজি আরিস তৈরির পদ্ধতি
ইরানের অনেক স্থানীয় মিষ্টির মতোই আরিস তৈরির পদ্ধতিও খুব সহজ। সম্ভবত এই সরলতার কারণেই তাবরিজের মানুষ বহু প্রাচীনকাল থেকেই এটি পছন্দ করে আসছেন এবং অতিথি আপ্যায়নের জন্য এই মিষ্টি তৈরি করতেন।
আরিস তৈরি করতে প্রয়োজনীয় উপকরণ:
- দুধ: ২ কাপ
- চিনি: ১ কাপ
- মাখন: ৮০ গ্রাম
- গোলাপজল: ১ টেবিল চামচ
প্রথমে একটি ছোট পাত্রে দুধ ঢেলে চুলায় বসান। দুধ ফুটে উঠলে এতে চিনি যোগ করুন এবং ভালোভাবে নাড়তে থাকুন। খেয়াল রাখবেন, দুধ নাড়তে দেরি করলে চিনি পাত্রের নিচে লেগে যেতে পারে এবং আপনার পরিশ্রম নষ্ট হতে পারে। দুধ ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে দিন। এতে মিশ্রণটি দ্রুত পাত্রের তলায় লেগে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
চিনি দুধের মধ্যে ভালোভাবে গলে গেলে এতে গোলাপজল ও মাখন যোগ করুন। মিশ্রণটি সম্পূর্ণ একজাতীয় ও কিছুটা ঘন না হওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন।
এবার মিশ্রণটি ছোট ছোট ছাঁচে ঢেলে দিন। ঠান্ডা হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। চাইলে ছাঁচে ঢালার পর এর ওপর সামান্য পেস্তার কুচি ছড়িয়ে দিতে পারেন।
কখনো কখনো ছাঁচে ঢালার পরিবর্তে গরম মিশ্রণটি একটি চওড়া ট্রেতে ঢেলে দেওয়া হয়। এভাবে করতে চাইলে প্রথমে ট্রের তলায় একটি মোটা প্লাস্টিক শিট বিছিয়ে তাতে সামান্য তেল মাখিয়ে নিন। এরপর আরিসের মিশ্রণটি তার ওপর ঢেলে দিন এবং ওপর থেকে পেস্তার কুচি ছড়িয়ে দিন।
মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে গেলে পছন্দমতো আকারে কেটে পরিবেশন পাত্রে রাখুন। আরিস যাতে আরও ভালোভাবে জমাট বাঁধে, সেজন্য ঠান্ডা হওয়ার পর এটিকে আরও এক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন।
আরিসের বিভিন্ন ধরন
আপনি যদি আরিসকে কোকো স্বাদের করতে চান, তাহলে দুধ ও চিনি ভালোভাবে মিশে যাওয়ার পর এতে আধা চা-চামচ কোকো পাউডার যোগ করুন। আর দুধি আরিস তৈরি করতে চাইলে কোকোর পরিবর্তে মিশ্রণে সামান্য ভ্যানিলা যোগ করতে পারেন।
তাবরিজি আরিস পরিবেশনের পদ্ধতি
পরিবেশনের সময় এই মিষ্টি সাজানোর জন্য গোলাপ ফুলের পাপড়ি ও জাফরান ব্যবহার করতে পারেন। ইরানিদের অভ্যাস হলো চায়ের সঙ্গে চিনি খাওয়া, তবে কিছু অঞ্চলে চিনির পরিবর্তে চায়ের সঙ্গে আরিস খাওয়া হয়।
আরিস পরিবেশনের ক্ষেত্রে এর টানটান বা চিবানোর মতো নরম-আঠালো গঠন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি একটি সুস্বাদু ও টানযুক্ত আরিস তৈরি করতে চান, তাহলে শুরুতে যে অনুপাতে উপকরণের পরিমাণ বলা হয়েছে, তা অবশ্যই মেনে চলুন। পাশাপাশি উপকরণগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়মিত নাড়তে থাকুন, যাতে মিশ্রণটি পাত্রের তলায় লেগে না যায়।
| আরিস: সুস্বাদু এক খাবার, যা হয়তো তাবরিজের সবচেয়ে প্রাচীন মিষ্টি | |
| পূর্ব আজারবাইজান | |
| Sweets and snacks | |
| Registration |





