ইয়াজদের মানুষ তাদের খাদ্যতালিকায় স্যুপ-কে বিশেষ গুরুত্ব দেন। এসব স্যুপ এমন সব উপকরণ ব্যবহার করে রান্না করা হয়, যা ইয়াজদের মানুষের বসবাসের পরিবেশে সহজলভ্য এবং এগুলো অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর।
এখানে ইয়াজদের কিছু স্যুপের পরিচয় দেওয়া হবে।
অশে শুলি , ৫০০ বছরের পুরোনো স্যুপঃ ইয়াজদের মানুষের ইয়ালদা রাতের অন্যতম নিয়মিত খাবার হলো এমন একটি স্যুপ, যার ইতিহাস ৫০০ বছরেরও বেশি পুরোনো।
শুলি স্যুপ ইয়াজদের অন্যতম সুস্বাদু স্যুপ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি ইরানের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় নিবন্ধিত হয়েছে।

শুলি স্যুপ দুই ধরনের তৈরি করা হয় গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন। শীতকালে এই স্যুপ শালগম দিয়ে এবং গ্রীষ্মকালে মসুর ডাল ও বিট ব্যবহার করে রান্না করা হয়। এই স্যুপের প্রধান উপকরণ হলো আটা এবং পালং শাক, শুলফা পাতা ও মেথি শাক। সাধারণত খাওয়ার সময় এতে স্বাদ বাড়ানোর জন্য ভিনেগার বা ডালিমের পেস্ট যোগ করা হয়। এই আশে শালগম ও বিট ব্যবহারের কারণে এর রোগ প্রতিরোধকারী গুণ রয়েছে বলে মনে করা হয়। ইয়াজদের মানুষ বিশ্বাস করেন, শীতকালে শুলি স্যুপ খেলে সর্দি-কাশির মতো রোগ থেকে মানুষ দূরে থাকতে পারে।
অশে অলুঃ ইয়াজদের আরেকটি স্যুপ হলো অশে আ়লু, যা শুকনো বরই (আলু বোখারা) ও চাল দিয়ে রান্না করা হয়। এই স্যুপ শীতকালে রান্না করা হয় এবং যারা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত, তাদের শরীরকে শক্তিশালী করতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
অশে সিরকেহ শিরে ইয়াজদঃ অতীতে এই স্যুপ বেশি রান্না করা হতো, কিন্তু বর্তমানে ইয়াজদিদের খাদ্যতালিকায় এটি তুলনামূলক কম দেখা যায়। এই স্যুপের ব্যবহৃত উপকরণের মধ্যে রয়েছে মাংস বা লেজের চর্বি (দোমবে), ছোলা এবং মসুর ডাল।
অশে জোগাওঃ এই আশের উৎপত্তিস্থল হলো আরদাকান শহর। এতে রুটির খামির/মণ্ড ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য স্যুপের বিপরীতে, জোগাও স্যুপ সাধারণভাবে রান্না না করে দমে রেখে (ধীরে ধীরে বাষ্পে) প্রস্তুত করা হয়।
অশে গান্দমে ইয়াজদঃ এই স্যুপ সাধারণত মহররম ও সফর মাসের শোকানুষ্ঠানে রান্না করা হয় এবং মানত হিসেবে শোক পালনকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এখনও এই স্যুপ রান্নার জন্য জ্বালানি কাঠের আগুন ব্যবহার করা হয়। এই স্যুপ রান্নার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং এতে ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। তাই সাধারণত বিতরণের আগের দিন রান্নার প্রথম ধাপ শুরু করা হয়।স্যুপটি ভালোভাবে জমাট ও সুস্বাদু হওয়ার জন্য এটি নিয়মিত নেড়ে যেতে হয়। এ কারণে এটি সাধারণত সমষ্টিগতভাবে এবং অনেক মানুষের অংশগ্রহণে রান্না করা হয়।

অশে কাদুয়ে হাল্ভায়ীঃ এই স্যুপও সাধারণত শীতল ঋতুতে বেশি রান্না করা হয়। এতে মিষ্টি কুমড়া ব্যবহারের কারণে এর পুষ্টিগুণ অনেক বেড়ে যায়। ইরানের আরও কিছু অঞ্চলেও কুমড়ার স্যুপ তৈরি করা হয়, তবে ইয়াজদের কুমড়ার আশের সঙ্গে সেগুলোর কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
অশে আনরঃ অনেক ইরানি বিভিন্ন আশের স্বাদ বাড়ানোর জন্য ডালিমের পেস্ট ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। কিন্তু ডালিমের স্যুপে যা বিশেষ করে মেহরিজ শহরে অনেক জনপ্রিয় ডালিমকে স্যুপ রান্নার প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ইয়াজদ ছাড়াও ফার্স ও গিলান প্রদেশেও ডালিমের স্যুপ মানুষের খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে রয়েছে।

ধনেপাতার শোরবাঃ এই সহজ ও সুস্বাদু স্যুপটি সাধারণত শরৎ ও শীতকালে বেশি রান্না করা হয়। কখনো কখনো এতে জুচিনি (কুমড়া জাতীয় সবজি) ও শালগম যোগ করে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটিকে একটি উপকারী খাবারে পরিণত করা হয়।
অশে তোকিঃ এই স্যুপটি মূলত বাফক এলাকার মানুষের খাদ্যতালিকায় বেশি দেখা যায় এবং উৎসব ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হয়। এই আশে শালগম, পালং শাক, বিট ও শুলফা পাতা ব্যবহার করা হয়। এতে তোকি (বাজরা/মিলেট) ব্যবহারের কারণে এর নাম হয়েছে তোকি স্যুপ।
অশে মশঃ এই ধরনের স্যুপ মূলত মেহরিজ এবং এর মনশাদ (منشاد) পাহাড়ি অঞ্চলে তৈরি করা হয়। অন্যান্য অনেক ইয়াজদি আশের মতো এই স্যুপও শীতকালে বেশি জনপ্রিয়। সাধারণত এই স্যুপ শোকসভা ও মৃত ব্যক্তির স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়নের জন্য ব্যবহার করা হয়।
অশে কালামঃইয়াজদ প্রদেশের অন্যান্য মানুষের তুলনায় তাফত শহরের মানুষ বাঁধাকপির স্যুপ বেশি খেয়ে থাকেন। শীতকালের জন্য বিশেষ এই আশে কিমা করা মাংস ও চালের পাশাপাশি ডালজাতীয় শস্য, বাঁধাকপি, গাজর, শুকনো বরই (আলু বোখারা) এবং শালগম ব্যবহার করা হয়।
অশে যুঃ যবের স্যুপ সহজ রান্নার পদ্ধতি হওয়া সত্ত্বেও এতে প্রচুর পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। এই আশে ডালজাতীয় শস্য ও বিট ব্যবহার করা হয়। এটি হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়ক খাবারগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।