সুজুক: প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর মিষ্টি
সুজুক এক ধরনের বাসলুক (Baslog/Baslaq) মিষ্টি, যার বিশেষ স্বাদের কারণে এর অনেক ভক্ত রয়েছে। প্রতি বছর অনেক পর্যটক মারাগেহ বা পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের অন্যান্য শহর ভ্রমণের পর সুজুককে একটি সুস্বাদু স্মারক উপহার হিসেবে সঙ্গে করে বাড়িতে নিয়ে যান।
মারাগেহ যেহেতু আঙুর উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, তাই সেখানে প্রচুর পরিমাণে আঙুরের রস পাওয়া যায়। আর এই কারণেই আঙুরের সিরাপ বা ঘন রস এই মিষ্টির প্রধান উপাদান। এছাড়াও সুজুকে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণ যেমন বাদাম, আখরোট বা এপ্রিকটের বিচির শাঁস এসবও এই অঞ্চলের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য হিসেবে পরিচিত। তাই সুজুককে সম্পূর্ণরূপে মারাগেহের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পণ্য হিসেবে বর্ণনা করা যায়!
যদিও তুরস্কের মতো অন্যান্য দেশেও সুজুক তৈরি করা হয়, তবে মারাগেহের সুজুকের স্বাদ আলাদা। কারণ এতে ব্যবহৃত উপকরণ সম্পূর্ণ স্থানীয় ও প্রাকৃতিক এবং এর পুষ্টিগুণও অনেক বেশি।
মারাগেহের মানুষ তাদের বিভিন্ন উৎসবে, বিশেষ করে নওরোজ উৎসবে, সুজুক খেয়ে থাকেন। সাধারণত এই মিষ্টি তৈরির কাজ আজার মাসে (নভেম্বর-ডিসেম্বর) শুরু হয়, তবে এর প্রধান বিক্রির সময় হলো নওরোজের কাছাকাছি সময় (মার্চ মাস)।
মারাগেহ সুজুক তৈরির উপকরণ
মারাগেহ সুজুক তৈরি করতে নিচের উপকরণগুলো প্রয়োজন হবে। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী উপকরণের পরিমাণ কমানো বা বাড়ানো যেতে পারে:
- আখরোট: ১৫টি
- পানি ও আঙুরের সিরাপ (আঙুরের ঘন রস): প্রতিটি ১ কাপ
- কর্নস্টার্চ/মাড় (নিশাস্তা): আধা কাপ
- গোলাপজল: এক-তৃতীয়াংশ কাপ
- ভ্যানিলা: আধা চা-চামচ
- চিনি: ৩ টেবিল চামচ
- এলাচ গুঁড়ো: আধা চা-চামচ
- তরল তেল: ২ টেবিল চামচ
- জাফরান: প্রয়োজনমতো
আপনি চাইলে উপকরণের মধ্যে জেলাটিনও ব্যবহার করতে পারেন। এটি ব্যবহার করলে মিষ্টির গঠনে আরও নমনীয়তা বা টানটান ভাব আসে।
এই মিষ্টি তৈরির জন্য আপনার সুতা ও সুইয়েরও প্রয়োজন হবে!
মারাগেহ সুজুক তৈরির প্রণালি
শুরুতে আখরোটের শাঁসগুলোকে চার ভাগ করে নিন এবং হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর যখন আখরোট কিছুটা নরম হয়ে যাবে, তখন সুতা ও সুইয়ের সাহায্যে আখরোটের টুকরোগুলো একসঙ্গে গেঁথে নিন, যেন সেগুলো তসবিহের দানার মতো পরপর সাজানো থাকে। আখরোটের টুকরোগুলো অবশ্যই একে অপরের সঙ্গে ভালোভাবে লেগে থাকতে হবে। শেষে কিছুটা অতিরিক্ত সুতা রেখে দিন, যাতে পরে আখরোট ঝুলিয়ে রাখা যায়।
এবার মিশ্রণ তৈরির পালা। প্রথমে ঠান্ডা পানিতে কর্নস্টার্চ (নিশাস্তা) মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন, যাতে তা সম্পূর্ণ গলে যায়। এরপর মিশ্রণটি ছেঁকে নিন। ছেঁকে নেওয়া মিশ্রণে চিনি, গোলাপজল, ভ্যানিলা, জেলাটিন, এলাচ গুঁড়ো ও আঙুরের সিরাপ যোগ করুন এবং ভালোভাবে নাড়তে থাকুন। যতক্ষণ না মিশ্রণটি সম্পূর্ণ মসৃণ ও একজাতীয় হয়, ততক্ষণ নাড়তে হবে।
মিশ্রণটি একজাতীয় হয়ে গেলে খুব কম আঁচে বসিয়ে দিন এবং একটানা নাড়তে থাকুন। যখন মিশ্রণটি ঘন হয়ে আসবে, তখন এতে তেল ও জাফরান যোগ করুন। এরপর পাত্রটি চুলা থেকে নামিয়ে আরও কিছুক্ষণ নাড়ুন, যাতে মিশ্রণের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়।
সুজুক ভালোভাবে তৈরি করার জন্য চুলা থেকে নামানোর পর মিশ্রণটি একটি গভীর পাত্রে ঢেলে নিতে পারেন। কারণ পরবর্তী ধাপে সুতোয় গাঁথা আখরোটগুলো এই মিশ্রণের মধ্যে ঝুলিয়ে দিতে হবে। যখন আখরোটগুলো ভালোভাবে মিশ্রণে আবৃত হয়ে যাবে, তখন সেগুলো বের করে ঝুলিয়ে রাখুন। মিশ্রণটি আখরোটের সঙ্গে আরও ভালোভাবে লেগে থাকার জন্য এই প্রক্রিয়াটি আরও একবার পুনরাবৃত্তি করতে পারেন।
সুজুক সম্পূর্ণ প্রস্তুত হতে সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন সময় লাগে, যাতে এটি ভালোভাবে শুকিয়ে যায়। চাইলে ২৪ ঘণ্টা পর সুজুককে পেস্তার গুঁড়ো, নারকেলের গুঁড়ো বা তিলের মধ্যে গড়িয়ে নিতে পারেন। এতে এটি যেমন আরও সুস্বাদু হবে, তেমনি দেখতে আরও আকর্ষণীয় লাগবে। আখরোট ছাড়াও সুজুক তৈরিতে পেস্তা, কাঠবাদাম বা মিষ্টি এপ্রিকট ব্যবহার করা যায়। তবে আখরোট দিয়ে তৈরি সুজুকই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। সুজুক একটি সুস্বাদু মিষ্টি, যা একাই অথবা চায়ের মতো বিভিন্ন ধরনের গরম পানীয়ের সঙ্গে উপভোগ করা যায়।
| সুজুক: প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর মিষ্টি | |
| পূর্ব আজারবাইজান | |
| Sweets and snacks | |
| Registration | No registration |





