ইয়াজদের মিষ্টি: ইরানি মিষ্টির সুস্বাদু ও পুষ্টিকর উদাহরণ
ইয়াজদ ইরানের অন্যতম ঐতিহাসিক শহর হিসেবে পরিচিত। তবে এই শহরে ভ্রমণ করলে শুধু সুন্দর ও বিস্ময়কর ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখার সুযোগই পাওয়া যায় না, পাশাপাশি ইরানের সবচেয়ে সুস্বাদু মিষ্টির একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহের স্বাদ নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়। ইয়াজদের মিষ্টিগুলোতে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করা হয়। এ কারণেই এসব মিষ্টি বেশ পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর।
ইয়াজদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিষ্টিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাকলাভা, লোজ, ইয়াজদি কেক, পাতলা কেক (কেক তাখতিই), হাজি বাদাম, চালের ময়দার মিষ্টি (নানে বেরেঞ্জি), জানালার মতো নকশার মিষ্টি (নান পানজারেই/মোনগা), ইয়াজদি নঘল, কাতাব, পশমক, বাদামভরা ক্যান্ডি, ময়দার সোহান, খানির সোহান, নারকেলের মিষ্টি এবং শামি বাকলাভা।
পরবর্তী অংশে ইয়াজদের মিষ্টিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত কয়েকটি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।
কাতাব
ইয়াজদের মিষ্টির মধ্যে কাতাব অন্যতম জনপ্রিয়। এই সুস্বাদু মিষ্টি দুই ধরনের তৈরি হয় ঐতিহ্যবাহী ইয়াজদি কাতাব এবং মধুর কাতাব। কাতাবের বাইরের স্তর এক ধরনের রুটি বা খামিরের আবরণ, যা তেলে ভেজে তৈরি করা হয়। এই আবরণের খামির তৈরিতে ব্যবহার করা হয় গমের ময়দা, দুধ, দই এবং ডিমের কুসুম।
তবে কাতাব তৈরির পর এটি গুঁড়ো চিনির মধ্যে গড়িয়ে নেওয়া হয়, যার কারণে এর বাইরের রং সাদা হয়ে যায়।

এই নানের ভেতরে বাদামের গুঁড়া, গুঁড়ো চিনি এবং এলাচের একটি মিশ্রণ ভরে দেওয়া হয়। মধুর কাতাব ও ইয়াজদি কাতাবের পার্থক্য হলো এর ভেতরে ব্যবহৃত মিষ্টিকারক উপাদানে। মূলত মধুর কাতাবে গুঁড়ো চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার করা হয়। ইরানি চায়ের সঙ্গে কাতাব খাওয়ার আনন্দ সত্যিই স্মরণীয়।
ইয়াজদি কেক
নাম থেকেই বোঝা যায়, ইয়াজদি কেক ইয়াজদের একটি বিশেষ মিষ্টি, তবে বর্তমানে এটি পুরো ইরানজুড়েই বেশ জনপ্রিয়। এই সুগন্ধযুক্ত ও সুস্বাদু মিষ্টি সাধারণত অতিথি আপ্যায়নের জন্য ব্যবহার করা হয়।

এই মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণগুলো হলো ময়দা, দই, ভ্যানিলা, ফলের লবণ, ডিম, বেকিং সোডা এবং গুঁড়ো চিনি।
বাকলাভা
এই সুস্বাদু মিষ্টি ইরানে এতটাই জনপ্রিয় যে, ইরানিরা যেকোনো সুস্বাদু ও লোভনীয় জিনিসের সঙ্গে এর তুলনা করে! অবশ্য ইরানের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতেও বাকলাভা পাওয়া যায়, তবে ইয়াজদে বাকলাভা তৈরির একটি বিশেষ পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। বাকলাভা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় ডিমের কুসুম, তেল, বেকিং পাউডার, লবণ, মাখন, গোলাপজল, সাদা ময়দা, চিনি, পেস্তার গুঁড়া, বাদামের গুঁড়া, এলাচ এবং গুঁড়ো চিনি।
ইয়াজদি পশমক
পশমক একটি নরম ও হালকা ধরনের মিষ্টি, যার দেখতে অনেকটা সূক্ষ্ম তুলোর সুতোর মতো লাগে। এই মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহার করা হয় চিনি, ময়দা, সাদা তেল (জমাট তেল) এবং ভিনেগার।
জানালার মতো মিষ্টি
এই ধরনের মিষ্টিকে মোনকা নামেও ডাকা হয়। দেখতে ও স্বাদে এটি ইয়াজদের অন্যান্য মিষ্টির তুলনায় কিছুটা আলাদা। জানালার মতো মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহার করা হয় স্টার্চ, গোলাপজল, চালের ময়দা, সাদা ময়দা, ডিম, জাফরান, গুঁড়ো চিনি এবং তেল। এই মিষ্টি হালকা নাশতা বা মাঝের সময়ের খাবার হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

নানে সোরুক
নানে সোরুক মিষ্টির চেয়ে বেশি একটি রুটি বা নান ধরনের খাবার। তবে ইয়াজদবাসীদের খাবারে মিষ্টি স্বাদের প্রতি ভালোবাসার কারণে এই নানেও হালকা মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়। ইয়াজদবাসীদের বিশ্বাস, নান সোরুক গরম অবস্থায় খেলে এর স্বাদ অনেক বেশি উপভোগ্য হয়।

সোরুককে মিষ্টি করার জন্য এর ওপর চিনি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কখনও কখনও এই নানটি অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী ইরানি রুটির মতো পনির ও শাকসবজির সঙ্গে খাওয়া হয়। তবে এটি একাই হালকা নাশতা হিসেবেও খাওয়া যেতে পারে। নানে সোরুকের খামির তৈরির উপকরণ হলো সাংগাক রুটির ময়দা, লবণ, ধনে বীজ, গোলরঙ (এক ধরনের ফুলের পাপড়ি), ইস্ট এবং তিলের তেল।
হাজি বাদাম
ইয়াজদে হাজি বাদাম চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিষ্টি। এটি এক ধরনের নঘল (চিনির আবরণযুক্ত ছোট মিষ্টি), যা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় গোলাপজল, ডিমের কুসুম, বেকিং সোডা, গুঁড়ো চিনি, এলাচ এবং বাদাম।

সোহান আরদি
সোহান ইরানের কোম প্রদেশের অন্যতম জনপ্রিয় মিষ্টি, তবে ইয়াজদে এমন এক ধরনের সোহান তৈরি করা হয়, যা কোমের সোহান থেকে আলাদা। এই সোহান তৈরিতে গমের অঙ্কুর (গমের কুঁড়ি/জার্ম) ব্যবহার করা হয়, যা এর পুষ্টিগুণ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। সোহান আরদি তৈরির অন্যান্য উপকরণ হলো গমের ময়দা, প্রাণিজ তেল (ঘি), চিনি, লেবুর রসের নির্যাস, এলাচের গুঁড়া, জাফরান, ভোজ্য তেল এবং এলাচের নির্যাস।
ইয়াজদি নোগল
ইয়াজদবাসীদের একটি বিশেষ ধরনের নোগল রয়েছে, যা উৎসব, বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হয়। এই নোগলের প্রধান উপকরণ হলো চিনি ও গোলাপজল। এর ভেতরে বাদাম, পেস্তা বা চিনাবাদামকে পুর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দেখতে সাধারণ মনে হলেও এই নঘল অত্যন্ত সুস্বাদু এবং এর স্বাদ দীর্ঘদিন মনে থাকার মতো।
ইয়াজদি নানে বেরেঞ্জি
ইরানের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতেও ইয়াজদি নানে বেরেঞ্জির মতো মিষ্টি পাওয়া যেতে পারে, তবে ইয়াজদে এই মিষ্টি স্থানীয়দের পছন্দ অনুযায়ী বিশেষ উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়। এতে ব্যবহার করা হয় চালের ময়দা, চিনি, ডিম, সাদা ময়দা, তেল, এলাচ এবং গোলাপজল।
| ইয়াজদের মিষ্টি: ইরানি মিষ্টির সুস্বাদু ও পুষ্টিকর উদাহরণ | |
| ইয়াজদ | |
| Sweets and snacks |









