বিশ্ববিদ্যালয়

ইসফাহান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা চার মিলিয়নেরও বেশি মানুষের কাছে গেছে।

ইসফাহান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এই মহানগরের শিক্ষা কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনার প্রধান দায়িত্ব পালন করে থাকে।

১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ইসফাহান শহরে উচ্চতর স্বাস্থ্যসেবা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ইনস্টিটিউটটিই পরবর্তীকালে ইসফাহান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয় ইসফাহান মহানগরের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের প্রধান দায়িত্ব পালন করছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা থেকে প্রায় ৪৭ লাখ মানুষ উপকৃত হন।

ইসফাহান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস

ইসফাহানের আহমদাবাদ এলাকায় একটি ছোট বাড়িতে উচ্চতর স্বাস্থ্যসেবা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিছুদিন পর ইনস্টিটিউটটির প্রধান কার্যক্রম বিখ্যাত সাদি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করা যায়।

চার বছর পর, ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে, স্বাস্থ্যসেবা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি মেডিকেল অনুষদ চালু হয়। এই অনুষদ ছয় বছর মেয়াদি চিকিৎসাশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানের অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীকালে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটটি মেডিকেল অনুষদের সঙ্গে একীভূত হয় এবং এর শিক্ষকরা অনুষদের শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু করেন। এরপর ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধীনে ফার্মেসি অনুষদ প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দুই বছর পর এটি একটি স্বতন্ত্র অনুষদ হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। আরও তিন বছর পর, এই দুটি অনুষদ এবং সদ্য প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য অনুষদ একত্রিত হয়ে ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করে।

১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনটি নতুন শিক্ষাবিষয় ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস, শিক্ষা বিজ্ঞান এবং নার্সিং চালু করা হয়। একই সময়ে সোরাইয়া ও খোরশিদ চিকিৎসাকেন্দ্রের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষায়িত ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব উদ্যোগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও দ্রুততর হয়।

পরবর্তী বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকাঠামোতে অণুজীববিজ্ঞান, পরজীবীবিজ্ঞান ও চিকিৎসা রোগনির্ণয়বিষয়ক শিক্ষাক্রম যুক্ত হয়। এ ছাড়া দন্তচিকিৎসা অনুষদও প্রতিষ্ঠিত হয়।

অবশেষে, ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিভাগগুলো পৃথক করার সিদ্ধান্তের পর ইসফাহান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে শুরু করে।

 

ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান ও গবেষণা কার্যক্রম

ইসফাহান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী, প্রায় এক হাজার শিক্ষক ও গবেষক এবং ১০টি অনুষদ রয়েছে। অনুষদগুলো হলো:

 

১. জনস্বাস্থ্য অনুষদ

২. নার্সিং ও ধাত্রীবিদ্যা অনুষদ

৩. চিকিৎসা অনুষদ

৪. প্যারামেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদ

৫. পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান অনুষদ

৬. ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদ

৭. দন্তচিকিৎসা অনুষদ

৮. পুনর্বাসনবিজ্ঞান অনুষদ

৯. চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক প্রযুক্তি অনুষদ

১০ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও তথ্যবিজ্ঞান অনুষদ

এ ছাড়া, খোমেইনিশাহর শহরে অবস্থিত উচ্চতর স্বাস্থ্যশিক্ষা কমপ্লেক্সটি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।

ইসফাহান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৩৯টি শিক্ষাদান ও চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র এবং হাসপাতাল রয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৪৬টি গবেষণাকেন্দ্রও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে তিনটি গবেষণা ইনস্টিটিউট রয়েছে। এগুলো হলো  দন্তবিজ্ঞান, অসংক্রামক রোগের প্রাথমিক প্রতিরোধ এবং হৃদ্‌রোগ ও রক্তনালিসংক্রান্ত বিজ্ঞান। এসব গবেষণা ইনস্টিটিউট নিজ নিজ বিশেষায়িত ক্ষেত্রে গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পরিচালনা করে।

ইসফাহান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ১৮টি বৈজ্ঞানিক জার্নালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের গবেষণালব্ধ ফলাফল এবং স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্যান্য গবেষকের গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এই ১৮টি জার্নালের মধ্যে ৭টি ফারসি ভাষায় এবং ১১টি ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়।

 

ইসফাহান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও কার্যক্রম

২০২৩ সালে প্রকাশিত টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় এক ধাপ এগিয়ে ইসফাহান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ইরানের চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

এ ছাড়া, ২০২৩ সালে সাংহাই র‍্যাঙ্কিং পদ্ধতিতে নার্সিং বিষয়ে ২০১–৩০০তম স্থান অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি ইরানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ২০২১ সালে প্রকাশিত আইএসসি (ISC) র‍্যাঙ্কিং প্রতিবেদনেও ৫০১–৬০০তম স্থান অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়টি ইরানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্থান পায়।

এই বিশ্ববিদ্যালয় জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রিয়ার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গবেষণাকেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টি যৌথ গবেষণা ও বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ ছাড়া, বিদেশি অধ্যাপক ও গবেষকদের অংশগ্রহণে নিয়মিত বিরতিতে যৌথ সভা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

২০২৩ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪০০ জন। প্রতিবছর ইসফাহান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় তার আসনসংখ্যা ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার ভিত্তিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং সীমিতসংখ্যক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দেয়।