এজেন্সি
এনজিরেহর ইটের কারভানসারাই ও পাথরের কারভানসারাই মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি বিশ্ব ঐতিহ্য নিদর্শন।

এনজিরেহর ইটের কারভানসারাই ও পাথরের কারভানসারাই মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি বিশ্ব ঐতিহ্য নিদর্শন।

এনজিরেহর ইটের কারভানসারাই ও পাথরের কারভানসারাই মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি বিশ্ব ঐতিহ্য নিদর্শন।

পৃথিবীর খুব কম জায়গাতেই এমন সুযোগ পাওয়া যায়, যেখানে ৫০০ মিটারেরও কম পথ অতিক্রম করে দুটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দেখার সুযোগ থাকে। কিন্তু আপনি যদি ইয়াজদ প্রদেশের আরদাকান শহরে ভ্রমণ করেন, তাহলে এই সুযোগটি পাবেন। সেখানে পাথরের কারভানসারাই এবং ইটের কারভানসারাই পরিদর্শনের মাধ্যমে একদিকে যেমন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত দুটি স্থাপনা দেখতে পারবেন, অন্যদিকে ইরানের স্থাপত্য ইতিহাসের একটি অংশও জানতে পারবেন।

এই দুটি কারভানসারাইই এনজিরেহ নামের একটি মরুভূমি অঞ্চলে এবং ইয়াজদ ও তাবাস শহরের সংযোগকারী পথে অবস্থিত।ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অতীতে ইয়াজদ প্রদেশ ছিল কাফেলার চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ। এ কারণেই এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বহু কারভানসারাই নির্মিত হয়েছিল, যার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আজও টিকে আছে। ইয়াজদ প্রদেশের ছয়টি কারভানসারাইয়ের নাম ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় নিবন্ধিত হয়েছে।

পাথরের কারভানসারাই, ইয়াজদের প্রাচীনতম কারভানসারাই

পাথরের কারভানসারাই ইলখানি যুগের (১২৫৬ থেকে ১৩৫৬ খ্রিস্টাব্দ) স্থাপনা বলে মনে করা হয়। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এই কারভানসারাই আরও প্রাচীন এবং এর নির্মাণকাল চতুর্থ হিজরি শতাব্দী (দশম খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত পুরোনো হতে পারে। কারভানসারাইটির নাম থেকেই বোঝা যায়, এর নির্মাণে পাথর ছিল প্রধান উপকরণ। তবে স্থাপনাটির কিছু অংশে, বিশেষ করে প্রবেশপথের হাশতি (অষ্টকোণী প্রবেশ হল) অংশে, ইটও ব্যবহার করা হয়েছে।

এই কারভানসারাইটির নকশা একটি অনিয়মিত অষ্টভুজাকার পরিকল্পনা অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান ধ্বংসাবশেষ থেকে বোঝা যায় যে, এই পাথরের কারভানসারাইটির ব্যবহার সাধারণ কারভানসারাইগুলোর থেকে কিছুটা ভিন্ন ছিল। এখানে এমন কিছু আস্তাবল রয়েছে, যার একটি দরজা কারভানসারাইয়ের আঙিনার দিকে এবং অন্য দরজা স্থাপনাটির প্রবেশপথের দিকে খোলে। যদিও কারভানসারাইটির প্রায় সম্পূর্ণ ছাদ ধসে পড়েছে, তবুও দেয়ালের কিছু খাঁজ বা গর্ত এখনো দেখা যায়, যেগুলো তাক (দেয়ালের তাক) এবং অগ্নিকুণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে ইরানের জাতীয় ঐতিহ্যের তালিকায় নিবন্ধিত হয়।

ইটের কারভানসারাই, প্রাচীন কাফেলাদের জন্য একটি উপযুক্ত আবাসস্থল

এই কারভানসারাইটি পাথরের কারভানসারাইয়ের তুলনায় নতুন এবং এর নির্মাণকাল কাজার যুগে (১৯শ শতাব্দী) বলে মনে করা হয়। সম্ভবত পাথরের কারভানসারাইয়ের গুরুত্ব কমে যাওয়ার পর এবং ধীরে ধীরে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে, ইটের কারভানসারাই নির্মাণ করা হয়েছিল, যাতে এটি কাফেলাদের অস্থায়ী আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এই বিষয়টিই পাথরের কারভানসারাইয়ের প্রতি আরও অবহেলার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং এর ক্ষয়ক্ষতিও বৃদ্ধি পায়। নাম থেকেই বোঝা যায়, এই কারভানসারাই ইট দিয়ে নির্মিত। এর নির্মাণশৈলী ইরানের অন্যান্য অনেক কারভানসারাইয়ের মতো। স্থাপনাটি চতুর্ভুজাকার পরিকল্পনায় নির্মিত এবং এর কেন্দ্রে একটি আঙিনা রয়েছে।

স্থাপনাটির চার পাশে আঙিনার দিকে মুখ করা ইওয়ানযুক্ত কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। কক্ষগুলোর মেঝে আঙিনার স্তর থেকে প্রায় এক মিটার উঁচুতে অবস্থিত। ইওয়ান শুধু কাফেলাদের বিশ্রামের স্থান হিসেবেই নয়, বরং পণ্য ও সামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রয়ের স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। কারভানসারাইটির চার কোণে ইটের অলংকরণযুক্ত টাওয়ার দেখা যায়। যেহেতু কারভানসারাইটি তুলনামূলক সমতল এলাকায় অবস্থিত, তাই এই টাওয়ারগুলো থেকে আশপাশের অঞ্চলের ওপর ভালো নজর রাখা যায়। দূরে ছড়িয়ে থাকা কিছু পাহাড় এই কারভানসারাইটির দৃশ্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

অতীতে কখনো কখনো টাওয়ারের ওপর মশাল জ্বালানো হতো, যাতে রাতে পথ হারানো কাফেলাগুলো সেই আলো দেখে কারভানসারাইয়ের দিকে এগিয়ে আসতে পারে। এছাড়াও স্থাপত্যগত দিক থেকে এই টাওয়ারগুলো ভবনের কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার কাজও করত। কারভানসারাইটি জনবসতি থেকে দূরে অবস্থিত হওয়ায়, এর বাসিন্দাদের প্রয়োজন পূরণের জন্য এখানে একটি কানাত (ভূগর্ভস্থ জলব্যবস্থা) এবং একটি আব-আনবার (প্রাচীন পানির সংরক্ষণাগার) নির্মাণ করা হয়েছিল। এর ফলে এটি কাফেলাদের থাকার জন্য একটি আরামদায়ক ও উপযোগী স্থান হয়ে উঠেছিল।

গত কয়েক দশকে সম্পন্ন হওয়া সংস্কার কাজের কারণে এনজিরেহর ইটের কারভানসারাই বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় টিকে আছে। কারভানসারাইটির দুই পাশে থাকা সমান্তরাল করিডোর এবং সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ইটের তাক-চাশমে (খিলানযুক্ত ছাদ কাঠামো) এই স্থাপনাটির অন্যতম আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য।

এনজিরেহর পাথরের ও ইটের কারভানসারাইয়ের বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধন

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৫তম অধিবেশনে, যা সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এনজিরেহর ইটের কারভানসারাইপাথরের কারভানসারাইসহ আরও ৫২টি কারভানসারাইকে ইরানি কারভানসারাই নামে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এই ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে

 

 

এনজিরেহর ইটের কারভানসারাই ও পাথরের কারভানসারাই মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি বিশ্ব ঐতিহ্য নিদর্শন।
ইয়াজদ
মেহরিজ
,Natural
RegistrationUnesco

ইসলামিক কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশন হল ইরানি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যেটি সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের সাথে অধিভুক্ত; এবং 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[আরও]

:

:

:

: