দৃক পিকচার লাইব্রেরি লিমিটেড পরিদর্শন করলেন ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর মাহদি মোলায়ী আরানি বুধবার দ্রিক পিকচার লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী ও সমাজকর্মী শহিদুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তিনি ঢাকার দৃক পিকচার লাইব্রেরি লিমিটেড পরিদর্শন করেন।
সাক্ষাৎকালে ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রদর্শনী দৃক পিকচার লাইব্রেরিতে আয়োজনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনী আয়োজনের সম্ভাব্যতা এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া ইরানের স্বনামধন্য শিল্প ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান ‘সুরেহ’-এর সঙ্গে শহিদুল আলমের পরিচয় ও যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
দৃক পিকচার লাইব্রেরি একটি স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক ও অধিকারভিত্তিক প্রচারণা পরিচালনা, বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ও প্রচারসামগ্রী তৈরি এবং প্রশিক্ষণ প্রদান।
দ্রিকের ছয়টি প্রধান বিভাগ হলো দ্রিক ইমেজেস, ফটোগ্রাফি, প্রকাশনা, অডিও-ভিজ্যুয়াল (এভি), গ্যালারি ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং গবেষণা ও জনসচেতনতা প্রচারণা। এসব বিভাগের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের মাল্টিমিডিয়া সেবা প্রদান করে।
দৃক শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ দৃষ্টি বা দেখার ক্ষমতা। ঢাকায় দৃক পিকচার লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল উন্নয়নশীল দেশগুলোর আলোকচিত্রীদের নিজেদের দেশ ও সমাজকে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করা।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকাংশ ছবি ঐতিহাসিকভাবে বিদেশি বা অস্থানীয় আলোকচিত্রীদের মাধ্যমে ধারণ করা হয়েছে। ফলে এসব দেশের মানুষের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি অনেক সময় ছবিতে যথাযথভাবে উঠে আসেনি। এ বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশের মানুষের তোলা উচ্চমানের ছবি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিক্রি এবং বিশ্বব্যাপী প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে দৃক। সামাজিক সমতার নীতিতে বিশ্বাসী দ্রিক মানবাধিকার, গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক বৈষম্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরতে কাজ করে। শ্রমজীবী পরিবারের শিশু, নারী, শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য, অবহেলা ও নেতিবাচক ধারণা তুলে ধরতে বিভিন্ন সৃজনশীল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি।
সমাজের মূলধারায় তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পাওয়া মানুষ ও বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসাও দ্রিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়কে এর অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দ্রিকের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ‘ছবি মেলা’ আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব, আরভিজেএন (Rural Visual Journalism Network) এবং Majority World Photo Agency। এ ছাড়া দ্রিকের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে Pathshala South Asian Media Academy।
সাক্ষাৎ ও পরিদর্শনকালে দুই পক্ষের মধ্যে ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক ও শিল্পবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।
.