বাংলাদেশে অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
বাংলাদেশে অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে নিবেদিত। ঐতিহাসিক ও সভ্যতার বন্ধন, অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ এবং উভয় দেশের বিপুল সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে এই কেন্দ্রটি পারস্পরিক পরিচিতি বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত আদান-প্রদান এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
দুটি মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে ইরান ও বাংলাদেশ ফারসি ভাষা ও সাহিত্য, সুফিবাদ ও দর্শন, শিল্পকলা, জ্ঞানচর্চা এবং সভ্যতাগত ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গঠিত এক সমৃদ্ধ উত্তরাধিকারের অংশীদার। ভারতীয় উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য এক বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে এবং ইরানি কবি ও চিন্তাবিদদের সৃষ্টিকর্ম উভয় দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সংলাপ ও মিথস্ক্রিয়ার ক্ষেত্রে আজও এক মূল্যবান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে চলেছে।
এই অভিন্ন ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি বিশ্ববিদ্যালয়, বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী, লেখক, গণমাধ্যম এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ইরানের সংস্কৃতি, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও সভ্যতাকে তুলে ধরার নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
সাংস্কৃতিক ও শিল্পকলাবিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন, ফারসি ভাষা শিক্ষা, ইরানি সাহিত্য ও চিন্তাধারার পরিচিতি তুলে ধরা, শিক্ষাগত ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিষয়বস্তু (কন্টেন্ট) তৈরি ও বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগে সহায়তা প্রদান এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি তার লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে।
আমরা বিশ্বাস করি যে, বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ এবং জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও কার্যকর সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সেই অনুযায়ী, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি নিজেকে ইরানি ও বাংলাদেশি জনগণের মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, মতবিনিময় ও সহযোগিতার একটি মঞ্চ এবং ইরানি সংস্কৃতি ও সভ্যতায় আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য একটি উন্মুক্ত মিলনস্থল হিসেবে বিবেচনা করে।
সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের লক্ষ্য ও দায়িত্বসমূহ
১. উভয় দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রসার: ইরান ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া সুদৃঢ় করা এবং সাংস্কৃতিক ও জন-মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করা।
২. ইরানি সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রচার: ইরানের ইতিহাস, সাহিত্য, শিল্পকলা, বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বিজ্ঞান ও সভ্যতার ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যসমূহ তুলে ধরা।
৩. ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের প্রসার: ফারসি ভাষা শিক্ষার বিস্তার ঘটানো, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহায়তা প্রদান এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাথে সম্পর্ক জোরদার করা।
৪. কুরআন-কেন্দ্রিক সহযোগিতা ও ধর্মীয় সংলাপের প্রসার: কুরআনবিষয়ক বিভিন্ন আয়োজন ও প্রতিযোগিতায় যৌথভাবে কাজ করা এবং ইসলামী উম্মাহর ঐক্যের লক্ষ্যে দুই মুসলিম দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
৫. বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার উন্নয়ন: উভয় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, শিক্ষক এবং বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করা।
৬. গণমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম ও ভার্চুয়াল জগতে যোগাযোগ সম্প্রসারণ: সঠিক ও কার্যকর তথ্য-উপস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংবাদমাধ্যম, গণমাধ্যম, সংবাদ সংস্থা, সংবাদপত্র এবং ভার্চুয়াল জগতের সক্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপনে সহযোগিতা প্রদান করা।
৭. শিল্পকলা, চলচ্চিত্র ও সিনেমাবিষয়ক সহযোগিতার উন্নয়ন: দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং মানসম্মত ও উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগ ও শিল্প-চলচ্চিত্র বিষয়ক আদান-প্রদানকে সহায়তা করা।
৮. জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করা: যৌথ সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য তরুণ সমাজ, শিল্পী, লেখক, সমাজকর্মী এবং সংস্কৃতি-অনুরাগীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা।
সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান কার্যক্রম
- ফারসি ভাষা ও সাহিত্য: ফারসি ভাষা শিক্ষার কোর্স পরিচালনা, কবিদের স্মরণে অনুষ্ঠান আয়োজন, ফারসি ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক শিক্ষাকেন্দ্র ও বিভাগকে এবং, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে সহায়তা প্রদান। এ ছাড়া ‘ক্বান্দ-এ পারসি’ (ফারসি ভাষার মাধুর্য) উৎসব এবং ফারসি ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক সাহিত্যসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন।
- ইরানবিদ্যা: ইরানের ইতিহাস, সংস্কৃতি, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও সভ্যতার পরিচিতি তুলে ধরার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স, আলোচনা সভা ও পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন।
- শিক্ষা ও গবেষণা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ সৃষ্টি এবং অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনার ক্ষেত্রে যৌথ কার্যক্রম বা সহযোগিতা।
- শিল্পকলা ও চলচ্চিত্র: ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ইরান চলচ্চিত্র সপ্তাহ আয়োজন, চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ এবং শিল্পকলা ও ফারসি ক্যালিগ্রাফিবিষয়ক কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।
- গণমাধ্যম ও ভার্চুয়াল জগৎ: বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিষয়বস্তু তৈরি এবং ইরানের সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সম্ভাবনা তুলে ধরা।
- কুরআনবিষয়ক কার্যক্রম ও ধর্মীয় সংলাপ: কোরআনবিষয়ক যৌথ অনুষ্ঠান আয়োজন এবং ইসলামি বিশ্বের ঐক্য জোরদার করার লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানের আয়োজন।
- জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা: শিল্পী, লেখক, তরুণসমাজ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বেসরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও সহযোগিতা সম্প্রসারণ।
Connecting the World
Through Iranian Culture
Join us across more than 72 countries worldwide in fostering cultural exchange and expanding cultural connections.