• Aug 27 2026 - 10:39
  • 10
  • : 3 minute(s)
রোজনামচা’র দ্বিতীয় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন

ঢাবিতে ফারসি বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত ‘রোজনামচা’র দ্বিতীয় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন

779159591_122138874249196661_6023623992446704551_n

ঢাকা, ৮ আগস্ট ২০২৬: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে একই সঙ্গে ফারসি সাময়িকী ‘রোজনামচা’-এর দ্বিতীয় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য  অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. মো. আবুল কালাম সরকার এবং বাংলাদেশে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর জনাব মাহদি মৌলায়ী অ’রা’নী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সভাপতি ড. মুমিত আল রশিদ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ফারসি ভাষা ও সাহিত্য অধ্যয়নের গুরুত্ব, বাংলাদেশ ও ইরানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম নবাগত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষামূলক ও পাঠ্যক্রম-সম্পূরক বিভিন্ন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা উচিত। এসব কার্যক্রম তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য অধ্যয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ এবং বাংলাদেশে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

বাংলাদেশে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি তাঁর বক্তব্যে ফারসি ভাষাকে ইসলামী সভ্যতা, ইতিহাস ও সংস্কৃতি অনুধাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আরবি ভাষার পাশাপাশি ফারসি ভাষাও ইসলামী সভ্যতার বিকাশ, জ্ঞানচর্চা ও সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ফারসি ভাষায় রচিত অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ ও সাহিত্যকর্ম শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে সমৃদ্ধ করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন ঘটলেও একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের অবদান ও পরিচয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকে থাকে। ইরানি সাহিত্যিক ও কবিদের কালজয়ী রচনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, মাওলানা জালালউদ্দিন রুমির ‘মসনবি’, ফেরদৌসীর ‘শাহনামা’, সাদীর ‘বুস্তান’ ও ‘গুলিস্তান’ এবং হাফেজের ‘দিওয়ান’-এর মতো সাহিত্যকর্ম প্রায় আটশ বছর পরও তাদের সাহিত্যিক, দার্শনিক ও মানবিক তাৎপর্য অক্ষুণ্ন রেখেছে।

রাষ্ট্রদূত ড. জাহানাবাদি ঐতিহাসিক শিকড় ও নিজস্ব সভ্যতার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে মাওলানা রুমির মসনবি-র একটি ভাবার্থ উল্লেখ করেন নিজের মূল ও শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত সেই শিকড়ের সঙ্গে পুনঃসংযোগের আকাঙ্ক্ষা অনুভব করে। তিনি বলেন, একটি জাতির নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তার আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলা ও ফারসি ভাষার ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই ভাষার ইতিহাস ও পারস্পরিক সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক করতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফারসি সাময়িকী ‘রোজনামচা’-এর দ্বিতীয় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন। বাংলাদেশের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রচেষ্টা ও লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশিত এই সাময়িকীতে বাংলাদেশের প্রকৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, স্থাপত্য, শিক্ষা, মানুষের জীবনযাপন এবং পর্যটন সম্ভাবনাসহ মোট ৬১টি বিষয় ফারসি ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

সাময়িকীটি বাংলাদেশ সম্পর্কে ফারসি ভাষাভাষী পাঠকদের কাছে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক ধারণা তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ইরানের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ফারসি ভাষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নবাগত শিক্ষার্থী, বিদায়ী শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটনভিত্তিক পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Dhaka Bangladesh

Dhaka Bangladesh

.