এজেন্সি
খোদা-আফরিন জাদুঘরে আরাস নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে মানুষের সাত হাজার বছরের বসতির ইতিহাসের এক ঝলক।

খোদা-আফরিন জাদুঘরে আরাস নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে মানুষের সাত হাজার বছরের বসতির ইতিহাসের এক ঝলক।

খোদা-আফরিন জাদুঘরে আরাস নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে মানুষের সাত হাজার বছরের বসতির ইতিহাসের এক ঝলক।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের জন্য পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশ পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। এই প্রদেশে অসংখ্য জাদুঘর রয়েছে। এর মধ্যে খোদা-আফরিন জাদুঘর অন্যতম, যা খোমারলু শহরে অবস্থিত।

এই জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রত্ননিদর্শনগুলো এ অঞ্চলে মানুষের কয়েক হাজার বছরের বসবাসের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে।

খোদা-আফরিন জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?

খোদা-আফরিন পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলা। জেলার উত্তরে আরাস নদী প্রবাহিত হয়েছে এবং এটি ইরানের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর একটি। জেলার আয়তন প্রায় ,৫২৫ বর্গকিলোমিটার, যা প্রদেশের মোট আয়তনের প্রায় ৩.৩ শতাংশ। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে খোদা-আফরিন জেলা কালেইবার জেলা থেকে পৃথক হয়ে স্বতন্ত্র প্রশাসনিক জেলায় পরিণত হয়। খোমারলু এই জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র।

কারেহদাগ ও ককেশাস পর্বতমালার মধ্যবর্তী অবস্থান এবং পর্যাপ্ত জলসম্পদের প্রাপ্যতার কারণে এই অঞ্চলে কৃষির ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। খোদা-আফরিন বাঁধ একটি মাটির বাঁধ, যার কেন্দ্রে কাদামাটির কোর রয়েছে। এটি জেলার কৃষিকাজের জন্য পানির অন্যতম প্রধান উৎস। বাঁধটির উচ্চতা ৬১ মিটার (ভিত্তি থেকে ৬৪ মিটার) এবং এর শীর্ষভাগের দৈর্ঘ্য ৩৯০ মিটার

এই বাঁধটি নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ করার পাশাপাশি, একটি বৃহৎ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া আরাস মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের অংশ হিসেবে খোদা-আফরিন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে খোদা-আফরিন একটি প্রাচীন মানববসতির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। খোদা-আফরিনের ঐতিহাসিক সেতুগুলো প্রমাণ করে যে, বহু প্রাচীনকাল থেকেই আরাস নদী অতিক্রম করে এর উত্তর তীরে পৌঁছানোর জন্য এই অঞ্চলটি ব্যবহার করা হতো।

কিছু বর্ণনা অনুযায়ী, খোদা-আফরিন ছিল রাস জাতির আবাসস্থল। পবিত্র কুরআনে সংক্ষিপ্তভাবে এই জাতির কাহিনির উল্লেখ রয়েছে। কিছু তাফসিরকারের মতে, রাস জাতির মানুষ তাদের নবীকে একটি কূপে নিক্ষেপ করেছিল। এর ফলে তারা আল্লাহর শাস্তির সম্মুখীন হয়।

প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার থেকে জানা যায় যে, উরার্তু সভ্যতার শাসনামলে (খ্রিস্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দ) এই অঞ্চলে জনজীবন বেশ সমৃদ্ধ ছিল।

কারলুজেহ দুর্গ, আইনালু প্রাসাদ ও সংরক্ষিত এলাকা, ভায়গান গুহা, মারদানকোম গ্রাম, তুমেনিয়ানস গির্জা এবং খোদা-আফরিনের ঐতিহাসিক সেতুগুলো এই জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

এছাড়া খোদা-আফরিন জাদুঘরটি এই জেলায় প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া নিদর্শন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক ও প্রত্নবস্তু সংরক্ষিত রয়েছে।

খোদা-আফরিন জাদুঘর

খোদা-আফরিন জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সময়কাল ২০১২ খ্রিস্টাব্দে ফিরে যায়। এই জাদুঘরে এ অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যে আবিষ্কৃত নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে।

এই জাদুঘরে অসংখ্য ব্রোঞ্জ ও মাটির তৈরি বস্তু দেখা যায়, যেগুলোর অধিকাংশই খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত। এখানে সংরক্ষিত মৃৎপাত্রগুলোর বেশিরভাগই ধূসর বা হলুদাভ মাটির তৈরি। বাটি, জগ ও কলস এই জাদুঘরের মৃৎপাত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

এই পাত্রগুলোর আবিষ্কার অতীত যুগের মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং প্রমাণ করে যে তারা মৃৎশিল্পের কাজে দক্ষ ছিল। এসব নিদর্শনের পাশাপাশি খোদা-আফরিন জাদুঘরে শামুকের খোলস, কাচের মিশ্রণ ও অলংকারমূলক পাথর দিয়ে তৈরি গয়নাও প্রদর্শিত হয়েছে।

এছাড়া ছোট পাত্র, ছুরি, তীরের ফলক এবং যুদ্ধ ও শিকারের সরঞ্জামও এই জাদুঘরের অন্যান্য নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।

এই জাদুঘরে প্রদর্শিত বস্তুগুলো পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, এই অঞ্চলে মানুষের বসতি কেবল যাযাবর জীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং খ্রিস্টপূর্ব সহস্রাব্দগুলোতে এখানে স্থায়ী বসতির জীবনধারাও প্রচলিত ছিল।

এছাড়া শুজাইলু গ্রামের কাছাকাছি অবস্থিত পাসগাহ ও কুহনেহ তাপ্পেহসি প্রত্নস্থলগুলোর প্রাচীন টিলায় প্রায় সাত হাজার বছর আগের স্থায়ী মানববসতির নিদর্শন পাওয়া গেছে। অন্যান্য আবিষ্কৃত নিদর্শন থেকে জানা যায়, এই অঞ্চলে মানুষের বসবাস তাম্র-পাথর যুগ (চালকোলিথিক যুগ) ছাড়িয়ে ব্রোঞ্জ যুগেও অব্যাহত ছিল।

খোদা-আফরিন জাদুঘরে আরাস নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে মানুষের সাত হাজার বছরের বসতির ইতিহাসের এক ঝলক।
পূর্ব আজারবাইজান
খোমারলু

ইসলামিক কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশন হল ইরানি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যেটি সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের সাথে অধিভুক্ত; এবং 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[আরও]

:

:

:

: