এজেন্সি
তাবরিজ প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর: উত্তর-পূর্ব ইরানের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয়ের এক অনন্য ঠিকানা

তাবরিজ প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর: উত্তর-পূর্ব ইরানের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয়ের এক অনন্য ঠিকানা

তাবরিজ প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর: উত্তর-পূর্ব ইরানের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয়ের এক অনন্য ঠিকানা

প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরগুলো কোনো অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে তুলে ধরে। এ কারণেই এগুলো দর্শনার্থীদের কাছে সবসময়ই আকর্ষণীয়। ইরানে এমন বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর রয়েছে, যার মধ্যে তাবরিজ প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর অন্যতম।

মাত্র ২০০ বর্গমিটার আয়তনের হলেও জাদুঘরটিতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর সংরক্ষিত নমুনা (ট্যাক্সিডার্মি) প্রদর্শন করা হয়েছে। ছোট পরিসরের এই জাদুঘরেই দর্শনার্থীরা উত্তর-পূর্ব ইরানের সমৃদ্ধ প্রাণিজগত ও জীববৈচিত্র্যের এক চমৎকার পরিচয় লাভ করতে পারেন।

প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর হলো প্রকৃতির বিভিন্ন নমুনা, নিদর্শন ও প্রমাণ সংরক্ষণ, নথিভুক্তকরণ এবং শ্রেণিবিন্যাসের স্থান। আধুনিক মানুষ বর্তমানে প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার এবং নিজের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ কম পাচ্ছে। তাই প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরকে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা যায়। এসব জাদুঘর মানুষকে নিজেকে ও পৃথিবীর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুনভাবে জানার সুযোগ করে দেয়।

এই ধরনের জাদুঘরে প্রাণীদের এমনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়, যেন তারা প্রকৃতিতে যে অবস্থায় ছিল, সেভাবেই দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা যায়। এর মাধ্যমে সৃষ্টির বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য মানুষের চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করা, বন্যপ্রাণী সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করা, মানবজীবনে বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির গুরুত্ব তুলে ধরা, প্রকৃতির পরিবেশগত চিত্র উপস্থাপন করা এবং প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও শ্রেণিবিন্যাস করা এসবই প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরে প্রাণীর নমুনা সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশল হলো "ট্যাক্সিডার্মি" (Taxidermy) বা প্রাণীর দেহ সংরক্ষণ পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মাধ্যমে মৃত প্রাণীর দেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে প্রদর্শন করা সম্ভব হয়।

অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে ট্যাক্সিডার্মি পদ্ধতিতে জীবিত প্রাণীর শরীরে বিদ্যুৎ প্রয়োগ করা হয়। আসলে এটি সত্য নয়। এই প্রক্রিয়ায় মৃত প্রাণীর চামড়া আলাদা করা হয় এবং অতিরিক্ত চর্বি ও মাংস সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরবর্তী ধাপে প্রাণীর আকৃতির একটি কাঠামো তৈরি করা হয় এবং শেষে চোখ ও শরীরের অন্যান্য প্রয়োজনীয় অংশ যুক্ত করা হয়।

এভাবে প্রাণীর সম্পূর্ণ দেহ, অথবা শুধু মাথা-ঘাড় কিংবা শরীরের নির্দিষ্ট অংশের সংরক্ষিত নমুনা তৈরি করা হয়। তাবরিজ প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রাণীর নমুনা সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়েছে।

তাবরিজ প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্য

তাবরিজ প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরটি ১৯৯৩ সালে (১৩৭২ হিজরি শামসি) তাবরিজ শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়। জাদুঘরের অভ্যন্তরীণ নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে শুধু প্রাণীর আকৃতিই নয়, বরং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের পরিবেশও দর্শনার্থীদের সামনে বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা যায়।

জাদুঘরের একটি অংশে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের সংরক্ষিত নমুনা রাখা হয়েছে। ফলে তাবরিজের এই বন্যপ্রাণী জাদুঘর ভ্রমণ দর্শনার্থীদের লক্ষ লক্ষ বছর আগের পৃথিবীতে, এমনকি ডাইনোসরের আধিপত্যের যুগেও নিয়ে যায়। এই অংশে বিভিন্ন গৃহপালিত ও শিকারি পাখির ট্যাক্সিডার্মি নমুনার পাশাপাশি কিছু বিরল প্রাণীর কঙ্কালও সংরক্ষিত রয়েছে।

জাদুঘরের দ্বিতীয় অংশটি তুলনামূলকভাবে বড়। এখানে স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ, পাখি ও জলজ প্রাণীর ট্যাক্সিডার্মি নমুনা প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রতিটি নমুনার পাশে সংশ্লিষ্ট প্রাণীর প্রজাতি, বৈশিষ্ট্য এবং বাসস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে।

সব মিলিয়ে তাবরিজ প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরে প্রায়—

  • ৬০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী
  • ৯২ প্রজাতির পাখি
  • ১৫ প্রজাতির সরীসৃপ
  • ৭ প্রজাতির জলজ প্রাণী
  • ২ ধরনের জীবাশ্ম
  • ৪টি প্রাণীর কঙ্কাল
  • বিভিন্ন ধরনের ক্রাস্টেশিয়ান ও আর্থ্রোপোডের নমুনা
  • এবং প্রায় ৫ কোটি বছর আগের (দ্বিতীয় ভূতাত্ত্বিক যুগের) ডাইনোসরের নমুনা দেখা যায়।

পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে মারাগেহ, তাবরিজ, ভারজাকান ও শাবেস্তার এলাকায় মূল্যবান জীবাশ্মের উপস্থিতি এই জাদুঘরের জীবাশ্ম বিভাগকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ তৈরি করেছে।

এই জাদুঘরে পূর্ব আজারবাইজানের জলাভূমি ও জলজ আবাসস্থলের বিভিন্ন পাখির নমুনাও রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাদা মাথার হাঁস, ডেমোয়াজেল সারস, হুপার রাজহাঁস, ফ্লেমিঙ্গো, সাদা পেলিক্যান, আনকুট হাঁস, ফিলুশ এবং আরও অনেক প্রজাতির পাখি।

এছাড়া পূর্ব আজারবাইজানের স্থানীয় প্রাণীদের মধ্যে আর্সবারান অঞ্চলের প্রতীকী প্রজাতি ককেশীয় কালো মোরগ, আর্সবারান ফিজ্যান্ট, তিতির, চিল তিতির এবং দরাজ পাখির ট্যাক্সিডার্মি নমুনাও এই জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

তাবরিজ প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর: উত্তর-পূর্ব ইরানের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয়ের এক অনন্য ঠিকানা
পূর্ব আজারবাইজান
তাবরিজ

ইসলামিক কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশন হল ইরানি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যেটি সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের সাথে অধিভুক্ত; এবং 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[আরও]

:

:

:

: