জানালার নকশার মিষ্টি: সহজ ও ঝটপট রেসিপিতে তৈরি সুস্বাদু এক নাস্তা।
মোনগা বা পাঞ্জেরেহি মিষ্টি (জানালা মিষ্টি)
মোনগা বা পাঞ্জেরেহি মিষ্টি, যাকে 'নানে পাঞ্জেরেহি' (জানালা রুটি) নামেও ডাকা হয়, ইরানের একটি সুস্বাদু ঐতিহ্যবাহী নাস্তা। এটি ইরানের জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্নগুলোর অন্যতম। এই মিষ্টি তৈরি করা খুবই সহজ হওয়ায় ইরানের মানুষ, বিশেষ করে ইয়াজদ অঞ্চলের বাসিন্দারা, অতিথি আপ্যায়নের জন্য এটি নিয়মিত পরিবেশন করেন।
পাঞ্জেরেহি মিষ্টি সাধারণভাবেও তৈরি করা যায়, আবার খাবারের রং ব্যবহার করে রঙিনভাবেও বানানো যায়।
পাঞ্জেরেহি মিষ্টি তৈরির উপকরণ
- ময়দা – ১ কাপ
- দুধ – ১ কাপ
- কর্নস্টার্চ (স্টার্চ) – ½ কাপ
- ডিম – ৩টি
- ভ্যানিলা – ½ চা-চামচ
- চিনি গুঁড়ো (আইসিং সুগার) – ½ কাপ
- গোলাপজল – ২ টেবিল-চামচ
আপনি চাইলে এই মিষ্টি তৈরির সময় খাবারের রং ব্যবহার করে বিভিন্ন রঙের পাঞ্জেরেহি মিষ্টিও বানাতে পারেন। যদিও অনেকেই গোলাপজলের সুগন্ধ পছন্দ করেন, তবুও এটি বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত নয়। অতিরিক্ত গোলাপজল মিষ্টির স্বাদ নষ্ট করতে পারে, এমনকি সামান্য তিতকুটেও করে দিতে পারে।
দুধের পরিবর্তে পানি ব্যবহার করা সম্ভব, তবে দুধ ব্যবহার করলে মিষ্টির স্বাদ অনেক বেশি ভালো হয়। ভ্যানিলা শুধু মিষ্টির স্বাদই বাড়ায় না, ডিমের কাঁচা গন্ধও দূর করে।
চিনি গুঁড়ো মূলত শেষ ধাপে মিষ্টির ওপর ছিটিয়ে সাজানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। চাইলে এর পরিবর্তে সাধারণ চিনিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে চিনির দানাগুলো তুলনামূলক বড় হওয়ায় অনেকের কাছে তা ততটা আরামদায়ক লাগে না। যদি মিষ্টিটি বেশি মিষ্টি না করতে চান, তাহলে ওপর থেকে চিনি গুঁড়ো ছিটানোর ধাপটি বাদ দিতে পারেন।
পাঞ্জেরেহি মিষ্টি তৈরির পদ্ধতি
প্রথমে একটি পাত্রে কর্নস্টার্চ, দুধ ও গোলাপজল নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন, যাতে মিশ্রণটি পুরোপুরি মসৃণ হয়। এরপর একে একে ডিম যোগ করুন এবং প্রতিটি ডিম দেওয়ার পর ১–২ মিনিট করে ভালোভাবে ফেটান। মিশ্রণটি সম্পূর্ণ মসৃণ হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালোভাবে না মিশলে মিষ্টির চূড়ান্ত আকৃতি ও গঠন নষ্ট হতে পারে। ডিম মেশানো হয়ে গেলে ভ্যানিলা যোগ করুন এবং আগের মতোই ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে নিন।
এবার ময়দা যোগ করার পালা। তবে তার আগে অবশ্যই ময়দা চেলে নিন, যাতে এতে কোনো দলা না থাকে। এরপর অল্প অল্প করে ময়দা মিশ্রণে যোগ করুন এবং ধীরে ধীরে নাড়তে থাকুন, যাতে এটি সমানভাবে মিশে যায়। মিষ্টি ভাজার জন্য একটি কড়াই বা গভীর প্যানে মাঝারি আঁচে পর্যাপ্ত তেল গরম করুন। ভাজার সময় মিষ্টিগুলো যেন তেলের ওপর ভেসে থাকতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তেলের পরিমাণ কম হলে মিষ্টি পাত্রের তলায় লেগে যেতে পারে। তাই খুব বড় প্যানের পরিবর্তে ছোট বা মাঝারি আকারের প্যান ব্যবহার করলে কম তেলেই কাজ হয়ে যাবে।
আপনি যদি বিশেষ নকশার ছাঁচ ব্যবহার করতে চান, তাহলে আগে ছাঁচে সামান্য তেল মেখে গরম করে নিন। এতে ব্যাটার সহজে ছাঁচে লেগে যাবে এবং সুন্দর আকৃতি পাওয়া যাবে।
ভাজার সময় প্রতি কয়েক মিনিট পরপর ব্যাটারটি নেড়ে নিন, যাতে কর্নস্টার্চ নিচে জমে না যায়। মিষ্টি ভাজা হয়ে গেলে অতিরিক্ত তেল শোষণ করার জন্য টিস্যু পেপার বা পরিষ্কার কিচেন টাওয়েলের ওপর রাখুন। এতে অতিরিক্ত তেল ঝরে যাবে এবং মিষ্টি কিছুটা ঠান্ডাও হবে। এরপর চিনি গুঁড়োতে গড়িয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন, মিষ্টি খুব গরম থাকা অবস্থায় চিনি গুঁড়োতে দিলে তা ঠিকমতো গায়ে লেগে থাকবে না। তাই সামান্য ঠান্ডা হওয়ার পরই চিনি গুঁড়ো ছিটিয়ে বা গড়িয়ে পরিবেশন করুন।
পাঞ্জেরেহি মিষ্টি তৈরির কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
আপনি চাইলে মিশ্রণে সামান্য টক দইও যোগ করতে পারেন। দই মিষ্টিতে একটি মনোরম স্বাদ এনে দেয়, তবে এতে মিষ্টির গঠন কিছুটা নরম হয়ে যায়। যদি আপনি বেশি মুচমুচে পাঞ্জেরেহি মিষ্টি পছন্দ করেন, তাহলে দইয়ের পরিবর্তে দুধ ব্যবহার করাই ভালো।
ছাঁচ ব্যবহার না করেও এই মিষ্টি তৈরি করা সম্ভব। তবে সে ক্ষেত্রে ব্যাটার নরম হওয়ায় তা গরম তেলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাঞ্জেরেহি মিষ্টির বৈশিষ্ট্যপূর্ণ জানালার মতো নকশা তৈরি হয় না। চাইলে পাইপিং ব্যাগ বা কেক সাজানোর কোন (পেস্ট্রি ব্যাগ) ব্যবহার করেও এটি বানানো যায়। এজন্য ব্যাটারটি পাইপিং ব্যাগে ভরে নিন। এরপর কড়াইয়ের তেল ভালোভাবে গরম হলে ব্যাগ থেকে ব্যাটার চেপে তেলের মধ্যে ছেড়ে দিন।
তবে এই পদ্ধতিতে কাজ করার সময় সতর্ক থাকুন। গরম তেলে ব্যাটার দেওয়ার সময় তেল ছিটকে পড়তে পারে, তাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ধীরে ধীরে ব্যাটার ছাড়ুন।
| জানালার নকশার মিষ্টি: সহজ ও ঝটপট রেসিপিতে তৈরি সুস্বাদু এক নাস্তা। | |
| ইয়াজদ | |
| Sweets and snacks | |
| Registration | No registration |





