
১৫ শাবান
মধ্য-শাবান হলো ইসলামি ক্যালেন্ডারের অষ্টম মাসের (শাবান) ১৫তম দিন। পবিত্র শবে বরাত বা ১৫ শাবান বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই কিংবা অন্তত প্রায় ১২০০ বছর ধরে একটি বিশেষ পবিত্র ও আনন্দঘন দিন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। অনেক বিশিষ্ট সুন্নি মনীষী মনে করেন, সবচেয়ে মহিমান্বিত রাতগুলোর মধ্যে ১৫ শাবান অন্যতম। ভারত উপমহাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই দিনে নানা ধরনের মিষ্টি বিতরণ ও ব্যাপক ইবাদত বন্দেগি করা হয়। আলেমদের অনেকেই মনে করেন এই রাতের ইবাদত-বন্দেগি কবুল হয় এবং মুসলমানের সব গোনাহ মাফ করিয়ে নেওয়ার এক উপযুক্ত সুযোগ দেয়া হয় এই রাতে।
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর আহলে বাইতের অনুসারীরাও ১৫ শাবানের পুরো রাত নামাজ পড়া, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা, ধর্মীয় আলোচনা ও অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগিতে পার করে। এই দিনটি ইরানে দ্বাদশ ইমাম মুহাম্মাদ আল-মাহদী (আ.)-এর জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। তারা বিশ্বাস করে, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র পবিত্র আহলে বাইতের ১১ তম সদস্য ইমাম হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর পুত্র হিসেবে তাঁর জন্ম হয়েছিল ২৫৫ হিজরিতে ইরাকের (বর্তমান রাজধানী বাগদাদের উত্তরে) পবিত্র সামাররা শহরে। তাঁর মায়ের নাম ছিল নার্গিস। মহান আল্লাহর আদেশে এক পর্যায়ে ইমাম মাহদী (আ.) অদৃশ্য হয়ে যান। তাঁর অদৃশ্য থাকার সময়ও দুই ভাগে বিভক্ত। স্বল্পকালীন সময়ের জন্য অদৃশ্য হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে অদৃশ্য থাকা। দীর্ঘ মেয়াদে অদৃশ্য থাকার পর উপযুক্ত সময়ে তিনি আবার আবির্ভূত হবেন এবং সব ধরনের জুলুম ও বৈষম্যের অবসান ঘাটিয়ে বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচার ও ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন।
ইরানের জামকারান মসজিদে খুব জাঁকজমকের সাথে এ দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। ইরানের ধর্মীয় নগরী কোম থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে জামকারান গ্রামের কাছে এই মসজিদটি অবস্থিত। অতীতে এই মসজিদটি ‘কাদামগাহ’ মসজিদ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে জামকারান গ্রামের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে এর নাম হয় জামকারান মসজিদ। এছাড়া,ইমাম মাহদী (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে এই মসজিদকে ‘সাহেবুজ্জামান মসজিদ’ও বলা হয়। কোনো কোনো ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে, ইমাম মাহদী (আ.)-এর আবির্ভাবের পর তাঁর শাসনকার্য পরিচালনার অন্যতম কেন্দ্র হবে এই মসজিদ।
ইরানিরা ১৫ শাবানকে সামনে রেখে তাদের ঘরবাড়ি ও রাস্তাগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে এবং এগুলোতে আলোকসজ্জা করে। তারা সবাইকে মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করার মাধ্যমে এ দিনটি উদযাপন করে থাকে।
১৫ শাবান | |

