বিশ্ববিদ্যালয়

শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলা।

ফার্স প্রদেশে বিভিন্ন ধরনের শিল্পের বিস্তৃত উপস্থিতি শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিকে এই প্রদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করেছে।

শিরাজ দক্ষিণ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। এই শহরে ইলেকট্রনিক্স শিল্প, তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, সিমেন্ট, রাবার শিল্প, দুগ্ধশিল্প, বস্ত্রশিল্প এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। শিরাজকে ইরানের অন্যতম শিল্পকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে, এই শহরে একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হয়।

এই প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতেই শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি কয়েক দশক আগে তার কার্যক্রম শুরু করে এবং আজ পর্যন্ত শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে তার কার্যক্রম ও পরিসর ক্রমাগত বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ করে চলেছে।

শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ইতিহাস ও কাঠামো

শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি দক্ষিণ ইরানের প্রথম প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকোত্তর শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার পরিসর সম্প্রসারণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৬৮ সালে ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রি ফ্যাকাল্টি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। এই ফ্যাকাল্টি কয়েক দশক ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং অবশেষে ২০০৩ সালে শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি-তে উন্নীত হয়।

বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০টি ফ্যাকাল্টি কার্যক্রম পরিচালনা করছে:

১. ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

এই ফ্যাকাল্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনের মূল ভিত্তি এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় ফ্যাকাল্টি। স্নাতক পর্যায়ে ইলেকট্রনিক্স, কন্ট্রোল ও টেলিকমিউনিকেশন এই তিনটি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। মাস্টার্স পর্যায়ে ইলেকট্রনিক্স, পাওয়ার (সিস্টেম ও এনার্জি এবং পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স), কন্ট্রোল এবং টেলিকমিউনিকেশন (ফিল্ড ও সিস্টেম) মোট ছয়টি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এছাড়া পিএইচডি পর্যায়ে ইলেকট্রনিক্স, পাওয়ার, কন্ট্রোল ও টেলিকমিউনিকেশন এই চারটি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে।

২. কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তি

ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রি ফ্যাকাল্টি শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে উন্নীত হওয়ার সময় এই ফ্যাকাল্টিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও আর্কিটেকচার এই তিনটি শিক্ষা বিভাগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

৩. মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় ও বিভাগ সম্পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে এই ফ্যাকাল্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে মাস্টার্স পর্যায়ে এনার্জি কনভার্সন, অ্যাপ্লাইড ডিজাইন, মেকাট্রনিক্স ও অ্যারোডাইনামিক্স এই চারটি বিষয়ে এবং পিএইচডি পর্যায়ে এনার্জি কনভার্সন ও অ্যাপ্লাইড ডিজাইন এই দুটি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এই ফ্যাকাল্টির গবেষণাকে সহায়তা করার জন্য হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং সেন্টার, উইন্ড টানেল টেস্টিং ল্যাবরেটরি এবং মেকাট্রনিক্স ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

৪. সিভিল ও পরিবেশ প্রকৌশল

এই ফ্যাকাল্টির একটি সক্রিয় গবেষণা ও শিক্ষা বিভাগ হলো ভূমিকম্প প্রকৌশল বিভাগ। এখানে আধুনিক ভূমিকম্প গবেষণা, স্পেস-ফ্রেম কাঠামোর নকশা ও নির্মাণ, ভবন শক্তিশালীকরণ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নকশা এবং বিশেষ ধরনের ভবনের নকশা নিয়ে কাজ করা হয়। এই ফ্যাকাল্টিতেও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

৫. গণিত

প্রথমদিকে গণিত বিভাগটি বেসিক সায়েন্সেস ফ্যাকাল্টির একটি শিক্ষা বিভাগ ছিল। পরবর্তীতে শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির সম্প্রসারণের প্রক্রিয়ায় এটি একটি স্বতন্ত্র ফ্যাকাল্টিতে পরিণত হয় এবং ২০১২ সাল থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করে।

৬. কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

শিরাজে রাসায়নিক শিল্প ও তেল শোধনাগার শিল্পের উপস্থিতির কারণে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

৭. ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং

এই ফ্যাকাল্টি ২০০৯ সালে ইলেকট্রোসেরামিক্স বিষয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। এই বিষয়টি বৈদ্যুতিক, আলোকীয় ও চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সিরামিক উপাদান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়।

এছাড়া মাস্টার্স পর্যায়ে ক্ষয় ও ধাতু (Corrosion and Metals) এবং উপাদান শনাক্তকরণ ও নির্বাচন (Materials Identification and Selection)-সম্পর্কিত কোর্সও প্রদান করা হয়।

৮. রসায়ন

এই ফ্যাকাল্টিতে ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি এবং মেডিসিনাল অর্গানিক কেমিস্ট্রি এই দুই বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। রসায়ন ফ্যাকাল্টি প্রথমদিকে বেসিক সায়েন্সেস ফ্যাকাল্টির একটি বিভাগ ছিল। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এটি একটি স্বতন্ত্র ফ্যাকাল্টিতে রূপান্তরিত হয়। এই ফ্যাকাল্টির তিনটি সক্রিয় গবেষণাগার শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক কার্যক্রমে সহায়তা করে।

৯. পদার্থবিজ্ঞান

পদার্থবিজ্ঞান ফ্যাকাল্টি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালে। এই ফ্যাকাল্টির শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ফোটোনিক্স, কনডেন্সড ম্যাটার, অ্যাটমিক ও মলিকিউলার ফিজিক্স এবং সলিড-স্টেট ফিজিক্স এই শাখাগুলোকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।

১০. ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং

শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ফ্যাকাল্টিগুলোর মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি তুলনামূলকভাবে নতুন। এটি ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রথমে মাস্টার্স পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করে। বর্তমানে এই ফ্যাকাল্টিতে স্নাতক পর্যায়েও শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক শিল্পখাতের উৎপাদন, সেবা, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থিক ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা পূরণ করা।

শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির আন্তর্জাতিক অবস্থান

শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ইরানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানও এরই প্রতিফলন ঘটায়। উদাহরণস্বরূপ, সাংহাই র‌্যাঙ্কিংয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ৩০১–৪০০তম অবস্থান অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়টি ইরানের শীর্ষ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান পেয়েছে। এছাড়াও, টাইমস র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬০১–৮০০তম অবস্থানে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি ইরানের ২০টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হিসেবে পরিচিত হয়েছে।