বিশ্ববিদ্যালয়

ইসফাহান আর্ট ইউনিভার্সিটি অসাধারণ এক শিল্পসমৃদ্ধ পরিবেশে শিল্পশিক্ষা।

শিল্পকর্ম ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের সমৃদ্ধির কারণে ইসফাহান বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। এই ঐতিহ্যই ইসফাহান আর্ট ইউনিভার্সিটিকে শিল্পক্ষেত্রে ইরানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হতে সহায়তা করেছে।

ইসফাহানকে ইরানের অন্যতম ঐতিহাসিক শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে ইরানি ও ইসলামী শিল্পের বহু নিদর্শন তাদের সর্বোত্তম সৌন্দর্যে ফুটে উঠেছে। প্রাকৃতিক, শৈল্পিক ও ঐতিহাসিক আকর্ষণের বৈচিত্র্যের কারণে ইরানের মানুষের কথায় এই প্রাচীন শহরকে অর্ধেক পৃথিবী বলা হয়।

এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের কারণে শিল্পকলার প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী শিল্প সংরক্ষণের প্রচেষ্টারও এই শহরে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কয়েক দশক আগেও ইসফাহানের বিভিন্ন কৌশল ও শিল্পকলা সরাসরি ও মুখোমুখি শিক্ষাদানের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তর করা হতো।

তবে ইসফাহান আর্ট ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পর এই শহরে ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক শিল্পকলার শিক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বর্তমানে ইরানে শিল্পকলার বিশেষায়িত ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের শিক্ষা দেওয়া চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এটি একটি।

ইসফাহান আর্ট ইউনিভার্সিটির ইতিহাস

ইসফাহান আর্ট ইউনিভার্সিটি ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে ইসফাহান ক্যাম্পাস অনুষদ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ফারাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। তবে ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর ফারাবি বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও চারটি শিল্পবিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করে তেহরান আর্ট ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হলে, ইসফাহান ক্যাম্পাসটি স্বতন্ত্রতা লাভ করে।

শুরু থেকেই এই অনুষদ প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্থাপনার সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করা। এ কারণে ইসফাহান আর্ট ইউনিভার্সিটি ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রথম এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, যেখানে স্নাতক পর্যায়ে প্রত্নতত্ত্ব, চিত্রকলা, অভ্যন্তরীণ স্থাপত্য, নির্মাণ, রসায়ন ও বস্ত্র এই বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়া হয়। এছাড়া স্নাতকোত্তর পর্যায়ে স্থাপনা সংরক্ষণ এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ এই দুটি বিষয়েও শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিষয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পর ২০০০ খ্রিস্টাব্দে এই অনুষদকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২৫ জন শিক্ষক ও একাডেমিক সদস্য কর্মরত আছেন।

ইসফাহান আর্ট ইউনিভার্সিটির অনন্য বৈশিষ্ট্য

ইরানি ও ইসলামী ঐতিহ্যবাহী শিল্পের বিকাশ ও প্রদর্শনের অন্যতম কেন্দ্র ইসফাহান শহরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান শিক্ষার্থীদের একটি শিল্পসমৃদ্ধ পরিবেশে জীবনযাপন ও অভিজ্ঞতা অর্জনের বিশেষ সুযোগ করে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হয় ঐতিহাসিক ভবনগুলোতে। এই বৈশিষ্ট্য শিল্পবিষয়ক বিভিন্ন শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অত্যন্ত উপযোগী করে তুলেছে।

ইসফাহান আর্ট ইউনিভার্সিটিকে ইরানের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারবিদ্যার বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে ডক্টরাল পর্যায়ে নিদর্শন সংরক্ষণ এবং স্থাপনা সংরক্ষণ এই দুটি শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

ইসফাহান আর্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম

বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী পাঁচটি অনুষদে পড়াশোনা করছে। এগুলো হলো উচ্চতর শিল্প গবেষণা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার, হস্তশিল্প, স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা এবং দৃশ্যশিল্প।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সর্বশেষ গবেষণার ফলাফল প্রকাশের উদ্দেশ্যে চারটি বিশেষায়িত সাময়িকী প্রকাশিত হয়। এগুলোর নাম হলো শিল্প গবেষণা, ইরানের সংরক্ষণ ও স্থাপত্য, শিল্পের তুলনামূলক অধ্যয়ন এবং প্রাচীন প্রাচ্যের প্রত্নতত্ত্ব ও শিল্পের ইতিহাস।

বিশেষায়িত শিল্প ইনকিউবেশন কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। শিল্প ও সাংস্কৃতিক পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্পভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, সৃজনশীল শিল্পের জন্য স্থান প্রদান, শিল্পভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং শিল্পভিত্তিক ব্যবসার মাধ্যমে সম্পদ সৃষ্টি ও শিল্পের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্দেশ্যে এই কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে ইসফাহান সায়েন্টিফিক ও রিসার্চ টাউনশিপের সহযোগিতায় কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখন পর্যন্ত হস্তশিল্প, পর্যটন, শিল্প নকশা, সাংস্কৃতিক পণ্য, চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, অ্যানিমেশন, স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা এসব ক্ষেত্রে কার্যরত ৩০টিরও বেশি কোম্পানি ও গবেষণা সেল এখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এছাড়া বৈজ্ঞানিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দপ্তর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণের দায়িত্ব পালন করে। এই দপ্তর আন্তর্জাতিক সভার পরিকল্পনা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈজ্ঞানিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং বিদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বৈজ্ঞানিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের কাজ করে। অ-ইরানি শিক্ষার্থীদের ভর্তির শর্ত নির্ধারণ এবং তাদের ভর্তি-সংক্রান্ত নিয়ম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য প্রদানও এই দপ্তরের মাধ্যমে করা হয়।