এজেন্সি
খারানাক জলসেতু ইরানের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী জল পরিবহন সেতু।

খারানাক জলসেতু ইরানের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী জল পরিবহন সেতু।

খারানাক জলসেতু ইরানের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী জল পরিবহন সেতু।

ইরানের মরুপ্রধান ইয়াজ্দ প্রদেশ উত্তর গোলার্ধের শুষ্ক ও অর্ধ-শুষ্ক জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। এটি শিরকুহ ও খারানাক পর্বতমালার মধ্যবর্তী একটি বিস্তৃত উপত্যকায় অবস্থিত। খারানাক, ইয়াজ্দ প্রদেশের আর্দাকান জেলার একটি প্রাচীন গ্রাম, যেখানে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজমান।

আর্দাকান বিভিন্ন দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত একটি অঞ্চল। এখানে রয়েছে চাদরমেলু লৌহ আকরিক খনি, সাঘান্দ ইউরেনিয়াম খনি, এবং বারাইট, দস্তা ও গ্রানাইটের সমৃদ্ধ খনি। পাশাপাশি দারেহ-আনজির সংরক্ষিত এলাকায় বন্য ছাগল, বন্য ভেড়া, মাউফলন, বুনো বিড়াল, লিংক্স, এশীয় চিতা ও হুবারা পাখিসহ নানা বিরল প্রাণীর আবাস রয়েছে। এসব কারণে আর্দাকান ইয়াজ্দ প্রদেশের অন্যতম বৈশিষ্ট্যময় জেলা হিসেবে পরিচিত।

খারানাক গ্রামটি আর্দাকান শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সুপ্রাচীন ইতিহাসের অধিকারী এই গ্রামে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। গবেষকদের মতে, 'খারানাক' নামটি 'খোরনাক' বা 'খোরানাক' শব্দের রূপান্তর, যার অর্থ 'সূর্যোদয়ের স্থান' বা 'যেখানে সূর্যের উদয় হয়'

গ্রামটিতে দুর্গ, হাম্মাম, কারাভানসারাই, জলাধার ও মসজিদসহ বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে। তবে এর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আকর্ষণ হলো খারানাক জলসেতু যার দ্বিতীয় কোনো উদাহরণ ইরানে নেই। এটি ছিল একটি দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য সেতু, যা দিয়ে একদিকে পানি প্রবাহিত হতো, অন্যদিকে মানুষও পারাপার করতে পারত। তবে নির্মাতাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল পানি পরিবহন নিশ্চিত করা।

খারানাক সেতুর ইতিহাস

হাজার বছরের পুরোনো কানাত (ভূগর্ভস্থ জলসেচ ব্যবস্থা) ও তার উপশাখাগুলো বাদ দিলে, খারানাক সেতু ইয়াজ্দ প্রদেশের অন্যতম প্রাচীন জল পরিবহন কাঠামো। এর পানি প্রবাহের পদ্ধতি সম্পূর্ণ স্থানীয় উদ্ভাবন এবং অনন্য প্রকৌশল কৌশলের পরিচায়ক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতুটির ভিত্তি সেলজুক যুগে (একাদশ শতাব্দী) নির্মিত হয়। তবে এর উপরের অংশ কাজার আমলে (ঊনবিংশ শতাব্দী) নির্মিত বা পুনর্নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় প্রবীণদের বর্ণনা অনুযায়ী, এক শতাব্দীরও বেশি আগে ভয়াবহ বন্যায় সেতুর উপরের অংশ ধসে পড়ে। পরে কাজার যুগে এটি পুনর্নির্মাণের সময় প্রকৌশলগত উন্নয়ন আনা হয় এবং 'শোতারগেলু' নামে একটি নতুন কাঠামো সংযোজন করা হয়, যা সেতুটিকে আরও কার্যকর ও মজবুত করে তোলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই স্থাপনাকে 'আববারে-ই কাল' অথবা 'পোল-এ অস্তরো' নামেও চেনেন। স্থানীয় উপভাষায় 'আববারে' অর্থ জলপথ বা পানিপ্রবাহের পথ, আর 'কাল' বলতে মৌসুমি নদীকে বোঝায়, যার ওপর এই সেতুটি নির্মিত। 'অস্তরো' ছিল নদীর ওপারের কৃষিজমির স্থানীয় নাম; সেই জমিতে পৌঁছানোর প্রধান পথ ছিল এই সেতু।

সেতুর শোতারগেলু অংশটি প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে উটের গলার মতো আকৃতির একটি নকশা অনুসরণ করে নির্মিত। এর বিশেষ গঠন পানির সঙ্গে আসা পলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরিয়ে দেয়, ফলে সেতুর ওপর দিয়ে অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার পানি প্রবাহিত হয়।

স্থাপত্য ও বৈশিষ্ট্য

খারানাক জলসেতু সম্পূর্ণ ইটের তৈরি, যা এর দীর্ঘস্থায়িত্বের অন্যতম কারণ। ভিত্তির ইটগুলো লাল রঙের এবং সময়ের সঙ্গে কিছুটা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। ইটের ফাঁকগুলো সারুজ (ঐতিহ্যবাহী জলরোধী গাঁথুনির মিশ্রণ) দিয়ে পূরণ করা হয়েছে। পুরো ভিত্তি একাধিক পাথরের স্তরের ওপর নির্মিত।

উপরের অংশের ইটগুলো হলুদ রঙের এবং এগুলো যে পরবর্তী সময়ে সংযোজিত হয়েছে, তা সহজেই বোঝা যায়। ভিত্তির ইটের মাপ ২৫ × ২৫ × ৫ সেন্টিমিটার, আর উপরের অংশের ইটের মাপ ২০ × ২০ × ৫ সেন্টিমিটার

সেতুটিতে রয়েছে চারটি খিলানতিনটি স্তম্ভ। এর দৈর্ঘ্য ৪০ মিটার, প্রস্থ ৫.১ মিটার এবং উচ্চতা ৫.৭ মিটার। প্রায় ২ শতাংশ ঢাল রেখে এটি নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে। এখনও বৃষ্টির সময় এই সেতুর ওপর দিয়ে এক পাশ থেকে অন্য পাশে পানি প্রবাহিত হয়।

জাতীয় ঐতিহ্যের স্বীকৃতি

খারানাকের জলসেতু ও শোতারগেলু কমপ্লেক্স ২০১৪ সালে (১৩৯৩ হিজরি শামসি) ইরানের জাতীয় ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

খারানাক জলসেতু ইরানের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী জল পরিবহন সেতু।
ইয়াজদ
আরদাকান
Natural
Registration

ইসলামিক কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশন হল ইরানি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যেটি সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের সাথে অধিভুক্ত; এবং 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[আরও]

:

:

:

: