আন্তর্জাতিক বাজারে ৬১ দেশে রপ্তানি, উৎপাদনেও বাড়ছে প্রবৃদ্ধি
ইরানি হস্তনির্মিত কার্পেটের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতি
ইরানের হস্তনির্মিত কার্পেট শিল্প বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ডিজিটাল বিক্রয় চ্যানেলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সরাসরি কার্পেট পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে কার্পেট বিক্রির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন দেশটির নীতিনির্ধারকেরা।
ইরানের ন্যাশনাল কার্পেট সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি ১৪০৪ সালের প্রথম ১০ মাসে ৬১টি দেশে ৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের হস্তনির্মিত কার্পেট রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানির প্রধান গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জার্মানি, জাপান, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
রপ্তানির এই চিত্র থেকে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা বাজারের পাশাপাশি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার নতুন বাণিজ্যিক গন্তব্যেও ইরানি হস্তনির্মিত কার্পেটের চাহিদা রয়েছে।
উৎপাদন পরিসংখ্যানও শিল্পটির সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৪০৪ সালের প্রথম ১০ মাসে ইরানজুড়ে আনুমানিক ২৪ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার হস্তনির্মিত কার্পেট উৎপাদিত হয়েছে।
এদিকে ১৪০৫ সালের প্রথম চার মাসে দেশটির হস্তনির্মিত কার্পেটের উৎপাদন আরও ৮ শতাংশ বেড়ে ১০ লাখ বর্গমিটারের বেশি হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং শিল্প খাতে আরও বিস্তৃত অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পরিসংখ্যানের গুরুত্ব শুধু উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মাধ্যমে ইরানের হস্তনির্মিত কার্পেট শিল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সক্ষমতারও একটি চিত্র পাওয়া যায়। কারণ দেশটির হস্তনির্মিত কার্পেটের মোট উৎপাদনের সাধারণত ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই রপ্তানির জন্য নির্ধারিত থাকে।
ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং ডিজিটাল বিক্রয় ব্যবস্থার সম্প্রসারণ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে এগিয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি হস্তনির্মিত কার্পেটের বাণিজ্য আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: প্রেস টিভি
.