এজেন্সি
তাবরিজের কার্টুন জাদুঘরে কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্রের এক বিরল সংগ্রহ

তাবরিজের কার্টুন জাদুঘরে কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্রের এক বিরল সংগ্রহ

তাবরিজের কার্টুন জাদুঘরে কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্রের এক বিরল সংগ্রহ

তাবরিজকে প্রথম সারির শহরবলা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই শহর ইরানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। পৌরসভা, অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ, জনসাধারণের জন্য সিনেমা হল, শিশুশিক্ষালয়, মুদ্রণালয় এবং বধিরদের বিদ্যালয়ের মতো বহু সামাজিক, শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো তাবরিজেই প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে কিছু ক্ষেত্রে এই শহর শুধু ইরানেই নয়, বরং এশিয়া এমনকি বিশ্বপর্যায়েও অনন্য ও বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো কার্টুন বিষয়ক একটি বিশেষায়িত জাদুঘর প্রতিষ্ঠা।

তাবরিজের শিল্পগৃহ’ (খানে-য়ে হোনার)-এ অবস্থিত তাবরিজ কার্টুন জাদুঘরএশিয়া মহাদেশের প্রথম কার্টুন বিষয়ক জাদুঘর হিসেবে পরিচিত। এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে সারা বিশ্বে কার্টুন বিষয়ক মাত্র চারটি বিশেষায়িত জাদুঘর ছিল।

আয়তনের দিক থেকে, বুলগেরিয়ায় অবস্থিত অনুরূপ একটি জাদুঘরের পর তাবরিজ কার্টুন জাদুঘরকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কার্টুন জাদুঘর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তাবরিজের শিল্পগৃহ (কার্টুন জাদুঘর)-এর ইতিহাস

এই ভবনটির নির্মাণকাজ, যা পরবর্তীকালে গুলেস্তান ভবন নামেও পরিচিতি লাভ করে, ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে (১৩১৩ হিজরি সৌর সন) শুরু হয়। ভবনটি ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে (১৩১৮ হিজরি সৌর সন) ব্যবহারের জন্য চালু হয় এবং প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে এটি অফিসারদের ক্লাবঅতিথি আপ্যায়ন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর কয়েক বছর এটি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

১৯৮১-এর দশকে (১৩৬০-এর দশক, হিজরি সৌর সন) এই ভবনটি কিছু সময়ের জন্য তাবরিজ জাতীয় গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রথম উত্থাপিত হয় ১৯৫১-এর দশকে (১৩৩০-এর দশক, হিজরি সৌর সন), যখন মোহাম্মদ আলী তারবিয়াত তাবরিজের মেয়র ছিলেন।

এই প্রস্তাবের পর তাবরিজের একদল সংস্কৃতিপ্রেমী একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে বর্তমান তাবরিজ শহরের কেন্দ্রস্থলে জাতীয় গ্রন্থাগারের জন্য একটি ভবন নির্মাণ করা হবে। জনগণের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই গ্রন্থাগারটি ধীরে ধীরে বহু গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান গ্রন্থ সংরক্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়।

এই গ্রন্থাগারের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হলো ইঞ্জিলে রাসুলান” (প্রেরিতদের সুসমাচার) যা মাছের চামড়ার ওপর সিরিয়াক ভাষায় লেখা বাইবেলের প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিগুলোর একটি।

১৯৮০-এর দশকে তাবরিজ জাতীয় গ্রন্থাগারটি গুলেস্তান ভবনে স্থানান্তরিত হয়। সে সময় সেখানে প্রায় ৫৫ হাজার বই সংরক্ষিত ছিল।

পরবর্তীতে ২০০১ খ্রিস্টাব্দে (১৩৮০ হিজরি সৌর সন) তাবরিজের আজাদি সড়কে জাতীয় গ্রন্থাগারের নতুন ভবন চালু হলে, গুলেস্তান ভবনে সংরক্ষিত সব বই ও নথিপত্র নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়। এর ফলে গুলেস্তান ভবনকে শিল্পগৃহ (খানে-য়ে হোনার) হিসেবে রূপান্তরের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অবশেষে ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩৮৫ হিজরি সৌর সন) তাবরিজ শিল্পগৃহ এবং কার্টুন জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করে।

তাবরিজ শিল্পগৃহ (কার্টুন জাদুঘর)-এর বৈশিষ্ট্য ও স্থাপত্য

তাবরিজ শিল্পগৃহের মোট নির্মিত আয়তন ,৮৬০ বর্গমিটার। ভবনটি তিনটি অংশে নির্মিত হয়েছে। মাঝের অংশে একটি বড় হল রয়েছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভিন্ন কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে।

এই ভবনটির নির্মাণ তাবরিজ পৌরসভা ভবনের নির্মাণকালের সমসাময়িক হওয়ায়, দুটি ভবনের মধ্যে অনেক মিল লক্ষ্য করা যায়। এই সাদৃশ্য প্রথম দর্শনেই বোঝা যায়, কারণ উভয় ভবনের বাইরের অংশ এসপেরাখুন পাথর দিয়ে নির্মিত।

নির্মাণের পর বহু দশক পেরিয়ে যাওয়ায় এবং ভবনের কিছু অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায়, দক্ষিণ দিকের বারান্দা ও বিভিন্ন হলের অবস্থা উন্নত করার জন্য একাধিক সংস্কারকাজ করা হয়েছে।

বর্তমানে তাবরিজ শিল্পগৃহে তিনটি প্রদর্শনী হল রয়েছে, যেখানে চিত্রপ্রদর্শনী ও বিভিন্ন শিল্পপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এছাড়া ৩৫০ জন দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি অ্যাম্ফিথিয়েটার রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিল্পানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

তাবরিজ শিল্পগৃহের পশ্চিমাংশে অবস্থিত কার্টুন জাদুঘরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের তৈরি প্রায় ১৪ হাজার কার্টুন, পোস্টার, পোস্টকার্ড, ডাকটিকিট, ভিজিটিং কার্ড এবং কার্টুনবিষয়ক বই সংরক্ষিত রয়েছে।

এই সংগ্রহ কয়েক দশক ধরে গড়ে উঠেছে এবং তাবরিজে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফল, যার মধ্যে ১০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক উৎসব অন্তর্ভুক্ত।

জাদুঘরের দুটি গ্যালারিতে বিশ্বের খ্যাতনামা কার্টুনশিল্পীদের ৬০টি মৌলিক শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে।

এছাড়া তাবরিজ কার্টুনশিল্পী সমিতি এই ভবনেই অবস্থিত। এই সমিতি নিয়মিতভাবে আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্টুন ও ক্যারিকেচার উৎসবের আয়োজন করে।

এই কমপ্লেক্সে কার্টুন বিষয়ক একটি বিশেষায়িত গ্রন্থাগারও রয়েছে।

তাবরিজ কার্টুন জাদুঘরে কার্টুনধর্মী আবহে নির্মিত বেশ কয়েকটি ভাস্কর্যও স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাদুঘরের প্রবেশপথে রয়েছে, যা মোল্লা নাসরুদ্দিন সাময়িকীর একটি হাস্যরসাত্মক চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত।

তাবরিজ কার্টুন জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?

কার্টুন জাদুঘরটি তাবরিজের শিল্পগৃহ (খানে-য়ে হোনার)-এর একটি অংশ। এটি শহরের গুলেস্তান উদ্যানের (বাগ-এ গুলেস্তান) উত্তরাংশে অবস্থিত।

শহরের গণপরিবহন ব্যবহার করে সহজেই এই স্থানে পৌঁছানো যায়। বিশেষ করে শিল্পগৃহের কাছেই কুতকা (Qutqa) বা বাগ-এ গুলেস্তান মেট্রো স্টেশন অবস্থিত, যা দর্শনার্থীদের যাতায়াতকে আরও সুবিধাজনক করে তোলে।

তাবরিজ শিল্পগৃহ (কার্টুন জাদুঘর)-এর জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধন

এই ভবনটি ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে (১৩৮৭ হিজরি সৌর সন) ইরানের জাতীয় ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তাবরিজের কার্টুন জাদুঘরে কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্রের এক বিরল সংগ্রহ
পূর্ব আজারবাইজান
তাবরিজ
Artistic

ইসলামিক কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশন হল ইরানি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যেটি সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের সাথে অধিভুক্ত; এবং 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[আরও]

:

:

:

: