এজেন্সি
আবিয়ানে: এমন একটি গ্রামে পদচারণা, যা তার ঐতিহাসিক স্বকীয়তা ধরে রেখেছে।

আবিয়ানে: এমন একটি গ্রামে পদচারণা, যা তার ঐতিহাসিক স্বকীয়তা ধরে রেখেছে।

আবিয়ানে: এমন একটি গ্রামে পদচারণা, যা তার ঐতিহাসিক স্বকীয়তা ধরে রেখেছে।

বর্তমান সময়ে, যখন আধুনিকতা বিভিন্ন ক্ষুদ্র সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং বিশ্বের মানুষের জীবনযাত্রা ও পরিবেশকে অনেকাংশে একই রকম করে তুলেছে, তখন এমন কোনো স্থান খুঁজে পাওয়া কঠিন, যেখানে ঐতিহাসিক কাঠামোর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী জীবনধারাও এখনো সংরক্ষিত রয়েছে।

তবে ইরানে "আবিয়ানে" গ্রামের মতো কিছু অঞ্চল রয়েছে, যেখানে এখনো সবকিছু নিজস্বতা ও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। এই গ্রামটি এমন একটি স্থান, যার ভ্রমণ পর্যটকদের মনে একটি স্থায়ী স্মৃতি হয়ে থাকবে।

আবিয়ানে: ইতিহাস, ভূগোল ও সংস্কৃতি

আবিয়ানে নাতানজ শহরের উত্তর-পশ্চিমে ৪০ কিলোমিটার এবং কাশানের দক্ষিণে ৭০ কিলোমিটার দূরে, ইসফাহান প্রদেশের উত্তর অংশে বরজরুদ নদীর তীরে অবস্থিত।

এই অঞ্চলে মানুষের বসবাসের ইতিহাস প্রায় ১,৫০০ বছর পুরোনো বলে ধারণা করা হয়। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে গ্রামটির সঠিক প্রাচীনত্ব সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কোনো মতামত দেওয়া সম্ভব নয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গ্রামের কাছাকাছি অবস্থিত মেহর উপাসনা (মিথ্রাবাদ) ধর্মের একটি মন্দির প্রমাণ করে যে এই গ্রামের ইতিহাস ইসলাম-পূর্ব যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত।

আবিয়ানের ভৌগোলিক অবস্থান এটিকে একটি উর্বর অঞ্চলে পরিণত করেছে। ফলে এই এলাকায় প্রচুর বাগান দেখা যায়। কৃষিকাজ ও বাগানচাষের পাশাপাশি পশুপালনও আবিয়ানের মানুষের অন্যতম প্রধান পেশা।

কার্পেট বুনন (কার্পেটশিল্প) এই গ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হস্তশিল্প।




আবিয়ানের মানুষের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা

আবিয়ানের খ্যাতির মূল কারণ হলো এখানকার মানুষের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, যা কয়েক শতাব্দী ধরে তাদের পোশাকের মধ্যেও এখনো দৃশ্যমান রয়েছে। এছাড়াও গ্রামের মানুষদের একটি নিজস্ব বিশেষ উপভাষা রয়েছে, যার অনুরূপ আশপাশের অন্য কোনো অঞ্চলে দেখা যায় না।

আবিয়ানে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও অনুষ্ঠান পালনের ধরনও অন্যান্য এলাকার তুলনায় আলাদা। গ্রামের বিভিন্ন অংশে বেশ কয়েকটি তীর্থস্থান রয়েছে। এর মধ্যে "বিবি জোবাইদা" মাজার অন্যতম পরিচিত।

এই মাজারটি, যা শিয়া মুসলমানদের সপ্তম ইমাম ইমাম কাজেমের একজন বংশধরের সমাধিস্থল, গ্রামের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থিত। ইমাম কাজেমের আরও দুই পুত্র ইয়াহইয়া ও ঈসা গ্রামের পূর্বদিকে অবস্থিত একটি মাজারে সমাহিত আছেন।

এই সমাধিগুলোর স্থাপত্যে রয়েছে বড় আঙিনা, জলাধার এবং অষ্টভুজাকৃতির গম্বুজ। স্থাপত্যের দিক থেকে এগুলো গ্রামের অন্যান্য স্থাপনার তুলনায় ভিন্ন বৈশিষ্ট্য বহন করে।

আবিয়ানে বেশ কয়েকটি মসজিদও নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে জামে মসজিদ সবচেয়ে পরিচিত। এই মসজিদের নামাজের হলের মেঝে ও মিহরাব কাঠ দিয়ে তৈরি।

কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এই মিহরাবের প্রাচীনত্ব সেলজুক যুগের সঙ্গে সম্পর্কিত। মিহরাবটি ফুল ও লতাপাতার নকশা এবং কুফি লিপিতে খোদাই করা সূরা ইয়াসিনের আয়াত দিয়ে অলংকৃত।

আবিয়ানের স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা

আবিয়ানের বাড়িগুলো এমনভাবে নির্মিত যে দূর থেকে এগুলোকে কয়েক তলা বিশিষ্ট একটি একক স্থাপনার মতো মনে হয়। তবে গ্রামের বাড়িগুলোর গঠন আসলে ধাপযুক্ত (সিঁড়ির মতো), অর্থাৎ একটি বাড়ির ছাদ উপরের বাড়ির আঙিনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই বিশেষ নির্মাণশৈলী ইরানের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে প্রচলিত এবং এর অসংখ্য উদাহরণ ইরানের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে দেখা যায়। এই ধরনের স্থাপত্যশৈলী বাসিন্দাদের পাহাড়ি এলাকার সীমিত জায়গা ও খাড়া ঢালকে কাজে লাগিয়ে আরও কার্যকরভাবে বসতবাড়ি নির্মাণের সুযোগ দেয়।

যেহেতু পার্বত্য অঞ্চলে শীতকাল দীর্ঘ ও অত্যন্ত ঠান্ডা হয়, তাই এই ধরনের বাড়ির বিন্যাস স্থানীয় মানুষের মধ্যে সহজ যোগাযোগ এবং ঘর উষ্ণ রাখার কাজে সহায়তা করে।

অতীতে যখন শহর ও গ্রামগুলো আক্রমণকারী শত্রু এবং বন্য প্রাণীর হুমকির মুখে থাকত, তখন এই ধরনের বাড়ি নির্মাণ পদ্ধতি বাসিন্দাদের জন্য আরও বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করত।




আবিয়ানের বাগানঘেরা গলিপথ 

গ্রামের প্রাচীনত্বের কারণে এখানে বিভিন্ন যুগের ইরানি স্থাপত্যের নিদর্শন ও বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। আবিয়ানে সাসানি যুগ (তৃতীয় থেকে সপ্তম শতাব্দী), সেলজুক যুগ (একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দী) এবং সাফাভি যুগের (ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী) কিছু স্থাপত্যিক ধারা লক্ষ্য করা যায়।

গ্রামের বাড়িগুলো প্রধানত কাঠ ও কাঁচা মাটি (খেশ্ত) দিয়ে নির্মিত। দেয়ালে লালচে মাটির ব্যবহার আবিয়ানেকে একটি অকর রঙের গ্রাম হিসেবে পরিচিত করেছে। অধিকাংশ বাড়ির দরজার কাঠামো, জানালা, বারান্দা ও ছাদ কাঠের তৈরি।

বাড়ির প্রবেশপথগুলো সাধারণত অর্ধবৃত্তাকার খিলানযুক্ত এবং গ্রামের পথ ও গলিগুলো সরু ও সংকীর্ণ। আবিয়ানের পুরোনো গলিতে হাঁটার অভিজ্ঞতা—যেখানে মাথার ওপর গাছের ডালপালা ও ভবনগুলো একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে সবুজ এক পথ তৈরি করেছে—এমন এক অনুভূতি দেয়, যার কোনো তুলনা অন্য কোথাও সহজে পাওয়া যায় না।

আবিয়ানে গ্রামের জাতীয় নিবন্ধন

আবিয়ানে গ্রামটি ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৫৪ হিজরি শামসি) ইরানের জাতীয় ঐতিহ্যের তালিকায় নিবন্ধিত হয়।

 

আবিয়ানে: এমন একটি গ্রামে পদচারণা, যা তার ঐতিহাসিক স্বকীয়তা ধরে রেখেছে।
ইসফাহান
নাটানজ
,Natural
Registration

ইসলামিক কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশন হল ইরানি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যেটি সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের সাথে অধিভুক্ত; এবং 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[আরও]

:

:

:

: