এজেন্সি
চালুস সড়ক: ইরানের উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার জন্য একটি মনোরম ও সুন্দর পথ।

চালুস সড়ক: ইরানের উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার জন্য একটি মনোরম ও সুন্দর পথ।

চালুস সড়ক: ইরানের উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার জন্য একটি মনোরম ও সুন্দর পথ।

ইরানের উত্তরাঞ্চলকে দেশটির অন্যতম পর্যটনপ্রধান এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কাস্পিয়ান সাগরের উপকূল, আলবোর্জ পর্বতমালার উচ্চভূমি এবং ঘন বনভূমি—এসবই উত্তর ইরানের প্রধান প্রাকৃতিক আকর্ষণ।

চালুস সড়ক এই অঞ্চলগুলোতে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ, যা কারাজ শহর থেকে শুরু হয়ে চালুস শহরে গিয়ে শেষ হয়েছে।

এই আঁকাবাঁকা সড়কটি "সড়ক ৫৯" এবং "বিশেষ সড়ক" নামেও পরিচিত। পাহাড় ও বনভূমির মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের কারণে এটি ইরানের অন্যতম সুন্দর সড়ক হিসেবে বিবেচিত হয়।

চালুস সড়ক নির্মাণের ইতিহাস

চালুস সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয় ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে (১৩১০ হিজরি শামসি), যখন রেজা পাহলভি ইরানের শাসক ছিলেন। এই সড়ক ছিল ইরানের উত্তরাঞ্চলকে রাজধানী এবং দেশের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করার একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। এর মাধ্যমে আলবোর্জ পর্বতমালার দুই পাশকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।

এই সড়ক নির্মাণের আগে ইরানের উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার জন্য কোনো উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। শুধুমাত্র কিছু কাঁচা পথের মাধ্যমে কয়েকটি গ্রামে যাওয়া সম্ভব ছিল। সারা বছর ধরে বৃষ্টিপাত, পাহাড়ধস এবং এ ধরনের নানা কারণে এসব পথ বহুবার অচল হয়ে পড়ত। ফলে ক্রমবর্ধমান যাতায়াতের চাপ সামলানোর মতো সক্ষমতা এসব পথের ছিল না।

দুই বছর পর, রেজা শাহের উপস্থিতিতে এই সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এই পথের গুরুত্বের কারণে একে "বিশেষ সড়ক" নামে অভিহিত করা হয়।

ধীরে ধীরে চালুস সড়কের আশপাশে রেস্তোরাঁ, আবাসন ও বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয় এবং এলাকাটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে (১৩৪০ হিজরি শামসি) আমির কবির বাঁধ (কারাজ বাঁধ) নির্মাণের ফলে এই সড়কের পথে একটি হ্রদ সৃষ্টি হয়, যা রাজধানীর কাছাকাছি একটি মনোরম বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়।

এর ফলে চালুস সড়কের প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং এই পথে যাতায়াতের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়।

সামগ্রিকভাবে, পাহাড়ি পরিবেশ এবং প্রচুর জলপ্রবাহের কারণে এই সড়ক নির্মাণ ছিল অত্যন্ত কঠিন ও শ্রমসাধ্য একটি কাজ।

চালুস সড়কের শুরু হয়েছে তেহরানের উত্তর-পূর্ব এবং কারাজের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল থেকে। তেহরান থেকে চালুস সড়কে যেতে হলে হাম্মত মহাসড়ক ব্যবহার করে, তেহরান-উত্তর মহাসড়কে প্রবেশের আগে চালুস সড়কের দিকে মোড় নিতে হয়।

চালুস সড়কের দর্শনীয় স্থানসমূহ

চালুস সড়কের প্রাকৃতিক দৃশ্য এতটাই সুন্দর যে একে শুধু যাতায়াতের একটি পথ হিসেবে দেখলে তা সত্যিই দুঃখজনক হবে! ইরানের অনেক মানুষ এই সড়কের সৌন্দর্যের কারণে উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার জন্য এই পথ বেছে নেন এবং যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে থেমে বিশ্রাম বা অবস্থান করেন, যাতে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।

এই কারণে চালুস সড়কের পথে অবস্থিত কয়েকটি আকর্ষণীয় স্থান সম্পর্কে জানা ভালো।

আমির কবির বাঁধ

এই বাঁধটি কারাজ শহরের ২৫ কিলোমিটার উত্তরে, কারাজ নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে এবং এটি কারাজ বাঁধ নামেও পরিচিত। কারাজ বাঁধ তেহরানের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অন্যতম উৎস।

বাঁধের পেছনে সৃষ্ট হ্রদটি শুধু মনোরম ও দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করেনি, বরং এটি মাছ চাষের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

কান্দোভান সুড়ঙ্গ

কান্দোভান সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ৮৮৬ মিটার, প্রস্থ ৫ থেকে ৭ মিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৬ মিটার। এটি ইরানের অন্যতম বিখ্যাত আন্তঃনগর সুড়ঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বলা হয়, এই সুড়ঙ্গ নির্মাণ করেছিলেন এমন শ্রমিকরা, যাদের কাছে কোনো বিশেষ আধুনিক যন্ত্রপাতি ছিল না। তারা ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৪ থেকে ১৩১৭ হিজরি শামসি) পর্যন্ত তিন বছর ধরে খননকাজ চালিয়ে সুড়ঙ্গটি নির্মাণ করেন।

এর ফলে সড়কের পথ প্রায় ১৩ কিলোমিটার ছোট হয়ে যায়। এই সুড়ঙ্গ নির্মাণের আগে তুষারপাত ও পাহাড়ধসের কারণে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ মাস চালুস সড়ক ব্যবহার করা সম্ভব হতো না।

যদিও এই সুড়ঙ্গ নির্মাণে সরকারের ওপর অনেক বেশি ব্যয়ভার পড়েছিল, তবুও এটি চালুস সড়কের কার্যকারিতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে।

দিজিন স্কি রিসোর্ট

চালুস সড়কটি দিজিন স্কি রিসোর্টে যাওয়ার অন্যতম পথ। এই স্কি রিসোর্টটি তেহরান থেকে ১৩ কিলোমিটার এবং কারাজ থেকে ৭৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

গাচসার লাল টিউলিপ বাগান

এই বাগানটি দিজিন স্কি রিসোর্টের কাছাকাছি অবস্থিত। এর সৌন্দর্য বিশেষভাবে ফুটে ওঠে অর্দিবেহেশ্ত মাসে (এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে)। এই বাগানে বিভিন্ন ধরনের লাল টিউলিপ ফুল দেখা যায়।

চালুস সড়কের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

চালুস সড়কের পথে কিছু স্থানীয় রেস্তোরাঁ রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় খাবার বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আশে রেশতেআশে দুঘ

এই পথে বেশ কয়েকটি সুন্দর গ্রামও রয়েছে। যেমন, শাহরেস্তানাক গ্রাম, যা তোচাল পর্বতের কাছাকাছি হওয়ায় পর্বতারোহীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

কান্দার গ্রাম আবার আঙুর, নাশপাতি ও চেরি বাগানের জন্য বিখ্যাত।

চালুস সড়ক: ইরানের উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার জন্য একটি মনোরম ও সুন্দর পথ।
মাজানদারান
চালাস
,Natural

ইসলামিক কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশন হল ইরানি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যেটি সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের সাথে অধিভুক্ত; এবং 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[আরও]

:

:

:

: