এজেন্সি
ভাজিরি গ্রন্থাগার ও জাদুঘর-অমূল্য ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার।

ভাজিরি গ্রন্থাগার ও জাদুঘর-অমূল্য ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার।

ভাজিরি গ্রন্থাগার ও জাদুঘর-অমূল্য ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার।

ইয়াজদের ভাজিরি গ্রন্থাগার ইরানের অন্যতম সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার হিসেবে পরিচিত। হাজার হাজার মূল্যবান পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত গ্রন্থের সংগ্রহ থাকায় এটি গবেষকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা-উৎস হিসেবে স্বীকৃত।

ভাজিরি গ্রন্থাগারের বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো জাদুঘর, যেখানে পুরোনো বই ও লিখিত নিদর্শনের পাশাপাশি ইয়াজদের প্রাচীন বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সামগ্রী ও উপকরণও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ইয়াজদের ভাজিরি গ্রন্থাগারের ইতিহাস

ইয়াজদের ভাজিরি গ্রন্থাগার ১৯৫৫ সালে (১৩৩৪ হিজরি শামসি) প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আলি মোহাম্মদ ভাজিরি। তিনি ১৮৯৫ সালে (১২৭৪ হিজরি শামসি) ইয়াজদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার ইয়াজদের একটি প্রাচীন ও সম্মানিত পরিবার ছিল।

শৈশব থেকেই ভাজিরি ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণে মনোনিবেশ করেন এবং পরবর্তীতে ইয়াজদ শহরের অন্যতম খ্যাতনামা আলেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তিনি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য বহু মূল্যবান সেবা প্রদান করেন। ১৯৪১ সালে (১৩২০ হিজরি শামসি) প্রথম পাহলভি শাসনের পতনের পর ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের ওপর চাপ কমে গেলে, ইয়াজদের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র (হাওজা-এ ইলমিয়া) পুনর্গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ভাজিরি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ‘আনজোমান-এ ওয়ায়েজিন’ (ধর্মীয় বক্তাদের সমিতি) প্রতিষ্ঠাও তাঁর অন্যতম স্মরণীয় অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি ১৯৭৭ সালে (১৩৫৬ হিজরি শামসি) মৃত্যুবরণ করেন এবং ইয়াজদের জামে কাবির মসজিদে, তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত গ্রন্থাগারের পাশেই সমাহিত হন।

প্রতিষ্ঠার সময় ভাজিরি গ্রন্থাগারে প্রায় ১,৬০০টি বই ছিল। এটি ইয়াজদের জামে কাবির মসজিদের উত্তর অংশে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে আশপাশের বাড়িগুলো ক্রয় করে গ্রন্থাগারটির পরিসর ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। বর্তমানে এর মোট আয়তন প্রায় ৬,০০০ বর্গমিটারে পৌঁছেছে।

গ্রন্থাগার সম্প্রসারণের প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল ১৯৬৫ সালে (১৩৪৪ সৌর হিজরি) ৬০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি নতুন ভবন নির্মাণ, যা ইয়াজদের একজন ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

১৯৬৯ সালে (১৩৪৮ হিজরি শামসি) ভাজিরি গ্রন্থাগারটি তার ৩,৩০০টি পাণ্ডুলিপিসহ ইমাম রেজার পবিত্র দরগাহের ট্রাস্ট ‘আস্তান-এ কুদস-এ রাযাভি’-এর কাছে ওয়াক্‌ফ (দান) করা হয়। বর্তমানে গ্রন্থাগারটি আস্তান-এ কুদস-এ রাযাভির গ্রন্থাগার, জাদুঘর ও দলিল-সংরক্ষণ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

ওয়াক্‌ফনামা অনুযায়ী, গ্রন্থাগারটি দান করার সময় এর সংগ্রহে মোট ২১,২৬৭টি বই ছিল।

ইয়াজদের ভাজিরি গ্রন্থাগারের সংগ্রহ

৪,৮০০টিরও বেশি পাণ্ডুলিপি, প্রায় ৬,০০০টি লিথোগ্রাফে (পাথরে ছাপা) মুদ্রিত বই, প্রায় ২,৩৫,০০০টি মুদ্রিত গ্রন্থ এবং ৬,০০০টিরও বেশি সাময়িকীর সংগ্রহ ভাজিরি গ্রন্থাগারকে ইরানের অন্যতম সমৃদ্ধ ও মূল্যবান পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক গ্রন্থভাণ্ডারে পরিণত করেছে।

গ্রন্থাগারের বই ও দলিলপত্র কয়েকটি পৃথক বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পাণ্ডুলিপি বিভাগ, লিথোগ্রাফে মুদ্রিত বইয়ের বিভাগ, মুদ্রিত বইয়ের বিভাগ এবং সংবাদপত্র ও সাময়িকী বিভাগ। এছাড়া গ্রন্থাগার ভবনে একাধিক পাঠকক্ষ, একটি তথ্যকেন্দ্র এবং পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ ও সংস্কার বিভাগও রয়েছে।

ইয়াজদের ভাজিরি জাদুঘর

ভাজিরি গ্রন্থাগারের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর জাদুঘর। একটি প্রদর্শনী হলে এখানে বিভিন্ন প্রাচীন বস্তু ও দুর্লভ গ্রন্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জাদুঘরের সংগ্রহে রয়েছে পুরোনো মুদ্রা, তালা ও দরজার কপাটের যন্ত্রাংশ, ইয়াজদের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের ব্যবহৃত একটি মূল্যবান পশমের কোট, ‘শিহা-কেশ’ নামে পরিচিত একটি ঘণ্টা যা একসময় ইয়াজদের বিখ্যাত ‘ওয়াক্ত-ও-সাআত’ চত্বরে স্থাপিত ছিল, গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রী ও হস্তশিল্প যেমন ফুলদানি, সুরমা রাখার পাত্র, সামোভার, চীনা মাটির বাসন, চায়ের পাত্র ও হুক্কা।

এছাড়া রয়েছে আলোকসজ্জার বিভিন্ন সরঞ্জাম, যেমন ঝুলন্ত প্রদীপ ও ধাতব বাতি, পুরোনো পোশাক, ঐতিহ্যবাহী জরিবুনন, সোনা ও রুপার সুতোয় সূচিকর্ম করা কাপড়, তাফতা কাপড়, ক্যালিগ্রাফির উপকরণ এবং হামামে ব্যবহৃত নানা সামগ্রী যেমন তাস, তামার বড় পাত্র ও গামলা।

জাদুঘরে সংরক্ষিত লিখিত নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে কয়েকটি প্রাচীন কুরআনের কপি, জমির দলিল, বিবাহনামা, চিঠিপত্র এবং বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার মীর ইমাদ, উস্তাদ নেয়রিজি ও দরভিশ আবদুল মজিদ তালেকানির হাতে লেখা শিল্পকর্ম। জাদুঘরে একটি বিবাহনামাও রয়েছে, যা ১৭৭৯ সালে (১১৫৭ হিজরি শামসি) প্রস্তুত করা হয়েছিল।

জাদুঘরের অধিকাংশ বস্তু ইয়াজদের সাধারণ মানুষ দান করেছেন। এখনও স্থানীয় বাসিন্দারা মূল্যবান ঐতিহাসিক সামগ্রী দান করে চলেছেন, যার ফলে জাদুঘরের সংগ্রহ ক্রমেই সমৃদ্ধ হচ্ছে।

ইয়াজদের মানুষের অতীত জীবনে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম ও দৈনন্দিন উপকরণ এখানে সংরক্ষিত থাকায়, এই জাদুঘরটি অনেকটাই একটি নৃতাত্ত্বিক (লোকজ জীবনধারা বিষয়ক) জাদুঘরের বৈশিষ্ট্যও ধারণ করেছে।

 

 

 

 

 

ভাজিরি গ্রন্থাগার ও জাদুঘর-অমূল্য ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার।
ইয়াজদ
ইয়াজদ

ইসলামিক কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশন হল ইরানি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যেটি সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের সাথে অধিভুক্ত; এবং 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[আরও]

:

:

:

: