এজেন্সি
কার্পেট ও মৃৎশিল্প জাদুঘর মরু শহর মেইবাদের পরিচয়ের প্রদর্শনী।

কার্পেট ও মৃৎশিল্প জাদুঘর মরু শহর মেইবাদের পরিচয়ের প্রদর্শনী।

কার্পেট ও মৃৎশিল্প জাদুঘর মরু শহর মেইবাদের পরিচয়ের প্রদর্শনী।

মেইবাদ শহর, যা ইয়াজদ প্রদেশের অন্যতম মরু শহর হিসেবে পরিচিত, কার্পেট ও মৃৎশিল্পের জন্য বিশেষভাবে বিখ্যাত। তাই আজ শাহ আব্বাসি কারাভানসরাই (পথিকদের বিশ্রামাগার) প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মেইবাদের কার্পেট ও মৃৎশিল্প জাদুঘর, যেখানে শহরটির এই দুই প্রধান ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে সবার সামনে তুলে ধরা হয়।

মেইবাদ কোথায়?

মেইবাদ ইয়াজদ প্রদেশের উত্তরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক শহর। বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুযায়ী, এটি মধ্য ইরানের প্রাচীনতম স্থায়ী বসতিগুলোর একটি। শহরটির অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন হলো নারিন দুর্গ, যা মেইবাদের দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী। কয়েক হাজার বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই শহর বর্তমানে ইয়াজদ প্রদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

উষ্ণ ও শুষ্ক জলবায়ুর এই মরু শহরটি ইয়াজদের পলল সমভূমির মধ্যভাগে অবস্থিত। চারপাশের পর্বতমালা আর্দ্রতা প্রবেশে বাধা দেয়, ফলে এখানকার আবহাওয়া আরও শুষ্ক হয়ে ওঠে।

বর্তমানে ইরানে উৎপাদিত মোট সিরামিক ও টাইলসের ২৫ শতাংশেরও বেশি মেইবাদে তৈরি হয়। এই ঐতিহ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ, ২০১৮ সালে মেইবাদকে বিশ্বের কার্পেট নগরী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

মেইবাদের কারাভানসরাই

ঐতিহাসিক গ্রন্থ অনুযায়ী, মেইবাদের কারাভানসরাই নির্মাণ করেছিলেন মির্জা মোহাম্মদ আমিন, যিনি খাজা মোহাম্মদ আলী ইয়াজদির পুত্র ছিলেন। সে সময় এই স্থাপনাটি ছিল কাফেলাদের বিশ্রাম ও যাতায়াতের কেন্দ্র, পাশাপাশি বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা তদারকিরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান।




মেইবাদ শহরের শাহ আব্বাসি বিশ্রামাগার

কারাভানসরাইয়ের কাছেই একটি আব-আনবার (প্রাচীন পানির ভাণ্ডার) রয়েছে। এর শিলালিপিতে ১৬৫৯ খ্রিস্টাব্দ সাল খোদাই করা আছে। তাই একই ধরনের নকশা ও নির্মাণশৈলীর ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, নামের মতোই শাহ আব্বাসি কারাভানসরাই সাফাভি শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল।

তবে স্থাপনাটির স্থাপত্যে কাজার যুগের (১৮শ শতক) বৈশিষ্ট্যও দেখা যায়। এ কারণে অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, এটি সম্ভবত আরও প্রাচীন একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনার ভিত্তির ওপর নির্মিত হয়েছিল। মেইবাদের কারাভানসরাই ২০০০ সালে ইরানের জাতীয় ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

মেইবাদের শাহ আব্বাসি কারাভানসরাইয়ের স্থাপত্য

কারাভানসরাইয়ের চারপাশে একটি আব-আনবার (পানির ভাণ্ডার), চাপারখানা (ডাকঘর) এবং ঐতিহ্যবাহী বরফঘর রয়েছে।

ভেতরে রয়েছে একটি চতুষ্কোণ আঙিনা, যার চারদিকে ছোট ছোট ইওয়ান (খোলা বারান্দা) ও কক্ষ সাজানো। পুরো স্থাপনাটি চার-ইওয়ান পরিকল্পনায় নির্মিত। এছাড়া এখানে রয়েছে আচ্ছাদিত হলঘর, হাউজখানা (জলাধার কক্ষ), মাহতাবি (খোলা ছাদ বা চত্বর), চারটি সুন্দর হাশতি (প্রবেশকক্ষ), এবং কাফেলার যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য প্রায় ১০০টি কক্ষ ও অগ্নিকুণ্ড। এসব অংশে আঙিনা থেকেই প্রবেশ করা যায়।

মোট ১০০টি কক্ষের মধ্যে ২৪টি বাইরের অংশে অবস্থিত ছিল। আঙিনার মাঝখানে একটি অষ্টভুজাকৃতির জলাধার ও মাহতাবি রয়েছে, যার মধ্য দিয়ে কানাতের পানি প্রবাহিত হয়।




মেইবাদের শাহ আব্বাসি  বিশ্রামাগার আঙিনার মাঝখানে অবস্থিত মাহতাবি।

কারাভানসরাইয়ের অবে-আনবারটি চারটি বাতাস ধরার টাওয়ার (উইন্ডক্যাচার)-সহ একটি বড় পানির ভাণ্ডার। এর দৃষ্টিনন্দন ইটের গম্বুজ সহজেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কারাভানসরাইয়ের প্রবেশপথ উত্তর দিকে অবস্থিত এবং এটি আব-আনবারের মূল প্রবেশদ্বারের ঠিক বিপরীতে। একটি বিশাল কাঠের দরজা কারাভানসরাইয়ের ভেতরকে বাইরের অংশ থেকে আলাদা করেছে। নিরাপত্তার জন্য প্রবেশপথের দুই পাশে দুটি প্রহরী টাওয়ারও নির্মাণ করা হয়েছিল।

কারাভানসরাইয়ের পশ্চিম পাশে রয়েছে চাপারখানা। এটি ছিল সরকারি আমানত ও গোপন চিঠিপত্র সংরক্ষণ ও আদান-প্রদানের কেন্দ্র। পাশাপাশি এখানে ডাকবাহকদের ব্যবহৃত ঘোড়া এবং দ্রুতগতির বার্তাবাহকদেরও রাখা হতো। চাপারখানা ও শাহ আব্বাসি কারাভানসরাইয়ের মাঝখানে নির্মিত আস্তাবলগুলোতে কাফেলার বিভিন্ন বাহন ও গৃহপালিত প্রাণী রাখা হতো।

মেইবাদের কার্পেট ও মৃৎশিল্প জাদুঘর

২০০২ সালে মেইবাদের কারাভানসরাইয়ের পূর্ব দিকের হলঘরে শহরটির দুই প্রধান ঐতিহ্যবাহী শিল্প কার্পেটমৃৎশিল্প পরিচিত করানোর উদ্দেশ্যে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি ইরানের একমাত্র বিশেষায়িত কার্পেট জাদুঘর, যেখানে পুরোনো ও নতুন উভয় ধরনের কার্পেট প্রদর্শন করা হয়।

এই জাদুঘরে মোট ৫০টি কার্পেট সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন কার্পেটটি ১৪০৫ খ্রিস্টাব্দে বোনা হয়েছিল। এটি আলি বীদ ইবনে হাজি মেইবাদি নীল, সাদা ও লাল এই তিনটি রঙে বুনেছিলেন।




মেইবাদের শাহ আব্বাসি বিশ্রামাগার প্রবেশদ্বারের অষ্টভুজাকার হাশতির ছাদ।


মৃৎশিল্প জাদুঘরটিও কার্পেট জাদুঘরের হলঘরের শেষ প্রান্তের হাশতিতে (অষ্টভুজাকার প্রবেশকক্ষে) অবস্থিত। এখানে প্রদর্শিত বস্তুগুলো দুই ভাগে বিভক্ত কোয়ারেহ পাত্র (মাটির পাত্র/মৃৎপাত্র) এবং সিরামিক পাত্র

মেইবাদের কার্পেট ও মৃৎশিল্প জাদুঘরের এই অংশে থাকা বেশিরভাগ নিদর্শন আধুনিক যুগের এবং এগুলোর বয়স প্রায় ১০০ বছর। বিশেষ ধরনের নকশার ব্যবহার, যা বর্তমানে এই ধরনের হাতে তৈরি সামগ্রীতে খুব কম দেখা যায়, এই মৃৎশিল্পগুলোকে বর্তমান সময়ের তৈরি নমুনা থেকে আলাদা করেছে।

কার্পেট ও মৃৎশিল্প জাদুঘর মরু শহর মেইবাদের পরিচয়ের প্রদর্শনী।
ইয়াজদ
মেবোদ

ইসলামিক কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশন হল ইরানি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যেটি সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের সাথে অধিভুক্ত; এবং 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[আরও]

:

:

:

: