
নাসের বিন খসরু বিন হারিস কুবাদিয়ানি বালখি
আবু মুঈন নাসের বিন খসরু বিন হারিস কুবাদিয়ানি বালখি: দর্শন, গণিত, জ্যামিতি, চিকিৎসাশাস্ত্র, সংগীত, চিত্রকলা, অলঙ্কারশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা এবং ধর্মতত্ত্বের মতো তৎকালীন সময়ের বেশিরভাগ বুদ্ধিবৃত্তিক ও বর্ণনামূলক বিজ্ঞানে নাসের খসরুর দক্ষতা ছিল। তিনি তাঁর কবিতায় এই বিজ্ঞানগুলোর উপর তাঁর দক্ষতাকে বার বার কাজে লাগিয়েছেন । কবি হাফিজ ও রুদাকির মতো নাসের খসরুও সম্পূর্ণ কুরআন মজীদ মুখস্ত করেছিলেন এবং তিনি তাঁর বিশ্বাস প্রমাণের জন্য কুরআনের আয়াত ব্যবহার করতেন।
সত্যের উৎস সম্পর্কে তিনি মুসলিম, জরাথ্রুস্ট, খ্রিস্টান, ইহুদি ও মনিসহ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের সাথে বিতর্ক করতেন এবং অস্তিত্বের সত্যতা সম্পর্কে তাদের ধর্মীয় নেতাদের পক্ষ থেকে করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতেন। তিনি সাত বছর ধরে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছিলেন যা একটি ভ্রমণকাহিনী আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
নাসের খসরুর উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে সফরনামে (ভ্রমণকাহিনী), ফারসি কবিতাসমগ্র, আরবি কবিতাসমগ্র, জাদুল মুসাফির, সাআদাতনামে, রৌশনাইনামে, গোশায়েশ ভা রাভায়েশ (জ্ঞান ও মুক্তি), আজাইবুল সানআহ, জামি’উল হিকমাতাইন, বুস্তানুল উকূল, লিসানুল আলাম, ইখতিয়ারুল ইমাম (ইমামের কর্তৃত্ব), ইখতিয়ারুল ইমান (বিশ্বাসের কর্তৃত্ব) ইত্যাদি।
নাসের খসরু স্ট্রিট তেহরানের অন্যতম ঐতিহাসিক রাস্তা। নাসের খসরুর নামে ইরান ও ইরানের বাইরে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ইরান ও অন্যান্য দেশে তাঁর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ইরানের এই কবিকে নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নাসের খসরু বাদাখশান প্রদেশের ইয়ামগান জেলায় মারা যান এবং তাঁকে সেখানেই সমাহিত করা হয়।
নাসের বিন খসরু বিন হারিস কুবাদিয়ানি বালখি | |
উল্লেখযোগ্য রচনা: সফরনামে (ভ্রমণকাহিনী), ফারসি কবিতাসমগ্র, আরবি কবিতাসমগ্র, জাদুল মুসাফির, সাআদাতনামে, রৌশনাইনামে, গোশায়েশ ভা রাভায়েশ (জ্ঞান ও মুক্তি) |

