এজেন্সি
শরাফখানেহ বন্দর ও এর দর্শনীয় স্থানসমূহ

শরাফখানেহ বন্দর ও এর দর্শনীয় স্থানসমূহ

শরাফখানেহ বন্দর ও এর দর্শনীয় স্থানসমূহ

 উরুমিয়া  হ্রদকে, যাকে প্রাচীন গ্রন্থগুলোতে ‘চিচেস্ত’ নামেও অভিহিত করা হয়েছে, ইরানের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ হ্রদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বর্তমান শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে হ্রদটি ধীরে ধীরে শুকিয়ে যেতে শুরু করে। এমনকি ২০২২ খ্রিস্টাব্দে এর আয়তনের ৯০ শতাংশেরও বেশি শুকিয়ে যায়।  উরুমিয়া  হ্রদ এত দ্রুত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, হ্রদের ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের কাজ এবং ওই অঞ্চলের ভূ-উপরিস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানিসম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারকে উল্লেখ করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে  উরুমিয়া  হ্রদ পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প কিছুটা সাফল্য অর্জন করলেও এখনও হ্রদটির আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারেনি যে সময় এই সুন্দর হ্রদটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত ছিল এবং এমনকি এর ওপর যাত্রী ও বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলও করত।”

 উরুমিয়া  হ্রদে নৌযান চলাচল

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী,  উরুমিয়া  হ্রদে নৌযান চলাচলের ইতিহাস মঙ্গোলদের আক্রমণেরও আগে, অর্থাৎ ১২১৯ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে, ফিরে যায়। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় ১৯শ শতাব্দীর নথিপত্রে। ইতিহাসের এক পর্যায়ে  উরুমিয়া  হ্রদে নৌযান চলাচলের অধিকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় সংসদের অনুমোদনের মাধ্যমে এই অধিকার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রায় তিন দশক আগেও এই হ্রদে নৌযান চলাচল বেশ জমজমাট ছিল এবং কয়েকটি বন্দর যার মধ্যে শরাফখানেহ বন্দর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হতো।

বর্তমানে হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ার কারণে সেখানে শুধু নৌযান চলাচলই অসম্ভব হয়ে পড়েনি, বরং হ্রদের তীরবর্তী বন্দর ও নৌযান নোঙর করার স্থানগুলোও তাদের আগের কর্মচাঞ্চল্য হারিয়েছে। তবে এসব স্থানে এখনও অনেক আকর্ষণ রয়েছে। আর এই আকর্ষণের কারণেই শরাফখানেহ বন্দরের মতো এলাকাগুলোতে সারা বছর প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে।

অতীতে ও বর্তমানে শরাফখানেহ বন্দর

শরাফখানেহ বন্দরকে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের শাবেস্তার জেলার একটি শহর এবং  উরুমিয়া  হ্রদের সবচেয়ে বড় উপকূলীয় বন্দর হিসেবে পরিচিত করা হয়। এই বন্দরটি  উরুমিয়া  হ্রদের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত। শাবেস্তার ও তাবরিজ শহর থেকে এর দূরত্ব যথাক্রমে ২০ ও ৯০ কিলোমিটার। শরাফখানেহ বন্দরের উত্তর-পূর্ব দিকে মিশো পর্বতমালা অবস্থিত।

শাবেস্তার জেলা ও শরাফখানেহ বন্দরের ভৌগোলিক অবস্থার কারণে এখানকার আবহাওয়া বেশ নাতিশীতোষ্ণ। বর্তমানে শরাফখানেহে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজে নিয়োজিত। তারা শস্য ও ডালজাতীয় ফসলের খেতে এবং বাদাম, এপ্রিকট, টক চেরি, চেরি, নাশপাতি, বরই ও আপেল-এর বাগানে কাজ করেন। এ ছাড়া শহরটিতে পশুপালনও হয়ে থাকে।

তাবরিজজোলফা রেলপথ, যা পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এই শহরের মধ্য দিয়ে গেছে। অতীতে এই রেলপথ শরাফখানেহ বন্দরের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং পণ্য সংরক্ষণ ও পর্যটকদের আতিথেয়তার জন্য এখানে ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা গড়ে উঠেছিল। যদিও বর্তমানে  উরুমিয়া  হ্রদ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছে, তবুও শহরের পুরোনো বন্দর থেকে অবশিষ্ট সরঞ্জাম ও স্থাপনাগুলো এখনও অসংখ্য পর্যটককে আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে বছরের বৃষ্টিপ্রবণ সময়ে, যখন হ্রদের পানির স্তর কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে শরাফখানেহ বন্দরের কাছে পৌঁছে যায়, তখন পর্যটকেরা এখানকার মনোরম দৃশ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এই বন্দরে ভ্রমণ করেন। কিছু মানুষের মতে,  উরুমিয়া  হ্রদের এই অংশের পানি ও কাদায় চিকিৎসাগত গুণ রয়েছে। এ কারণে শরাফখানেহ বন্দরকে কাদা-চিকিৎসা (মাড থেরাপি) ও পানি-চিকিৎসার জন্য অন্যতম সেরা স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তাল জেটি ও শরাফখানেহ বন্দরের দর্শনীয় স্থান

হ্রদের পানির পরিমাণ কমে গেলেও তাল জেটি শরাফখানেহ বন্দরের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হয়। এই জেটিটি উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের শুরুর দিকে নির্মিত হয়েছিল। হ্রদে চলাচলকারী জাহাজগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে এটি ব্যবহৃত হতো। জেটিটির কাঠামোতে ২৪টি পাথরের স্তম্ভ রয়েছে। প্রতিটি স্তম্ভের ব্যাস ৪০ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতা ১৩ মিটার। জেটিটির দৈর্ঘ্য ২০ মিটার এবং প্রস্থ ১২ মিটার। জেটির পাশে কয়েকটি জাহাজ এবং বন্দরের কিছু স্থাপনাও রয়েছে, যেগুলো দেখার মতো। এ ছাড়া জেটির কাছাকাছি প্রশাসনিক ভবন ও পণ্য সংরক্ষণের গুদামগুলোর ধ্বংসাবশেষও দেখা যায়।

তাল জেটি ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে ইরানের জাতীয় ঐতিহ্যের তালিকায় নিবন্ধিত হয়।

 

শরাফখানেহ বন্দর ও এর দর্শনীয় স্থানসমূহ
পূর্ব আজারবাইজান
শরফখানেহ
Registration

ইসলামিক কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশন হল ইরানি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যেটি সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের সাথে অধিভুক্ত; এবং 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[আরও]

:

:

:

: