• Jul 4 2026 - 10:16
  • 6
  • : 2 minute(s)
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য: ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে, ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে এক মৌলিক যোগাযোগের সেতুবন্ধন

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রতিষ্ঠার ১০৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রতিষ্ঠার ১০৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জনাব জালিল রাহিমি জাহানাবাদি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্মানিত কালচারাল কাউন্সেলর জনাব মাহদি মৌলায়ী আরানি।

 

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য: ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে, ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে এক মৌলিক যোগাযোগের সেতুবন্ধন

২ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রতিষ্ঠার ১০৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জনাব জালিল রাহিমি জাহানাবাদি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্মানিত কালচারাল কাউন্সেলর জনাব মাহদি মৌলায়ী আরানি। এছাড়া অনুষ্ঠানে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ উভয়েরই ১০৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগের সকল শিক্ষক এবং স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও প্রাক-ডক্টরাল পর্যায়ের প্রায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় করেন ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর জনাব মাহদি মৌলায়ী আরানি। এ সময় অধ্যাপক আবদুস সবুর খান, অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম খান (পূর্ণ অধ্যাপক ও গ্রেড–১), অধ্যাপক আবুল কালাম সরকারসহ অন্যান্য শিক্ষকের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেন।

গত ১০৫ বছর ধরে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় অবদান রাখা সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জনাব মাহদি মৌলায়ী আরানি বলেন, "ফারসি ভাষা কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা ভৌগোলিক সীমার ভাষা নয়; এটি সংস্কৃতি, পরিচয় ও সভ্যতার ভাষা। এ ঐতিহ্যের অংশ হতে পারা আমাদের সবার জন্য গর্বের বিষয়।" তিনি আরও জানান, ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে আরেকটি বিস্তারিত বৈঠক করার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে ইরানের রাষ্ট্রদূত জনাব জালিল রাহিমি জাহানাবাদি বলেন, "ফারসি ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি এমন একটি ভাষা, যার মাধ্যমে মানবাধিকার, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার পাঁচ হাজার বছরের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়। ফারসি ভাষা আমাদের মানবজাতির অভিজ্ঞতা, নৈতিকতা, আধ্যাত্মিকতা এবং মানবাধিকারের এক বিশাল ভাণ্ডারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, যার বহু নিদর্শন পার্সেপোলিসের শিলালিপিতে সংরক্ষিত রয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাশ্চাত্য মানবাধিকার ধারণার ইতিহাস যেখানে মাত্র ৬০–৭০ বছরের, সেখানে এই ঐতিহ্যের ইতিহাস বহু হাজার বছরের।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, "ভাষা ও সাহিত্য একটি দেশের পরিচয় ও সংস্কৃতির ভিত্তি। ফারসি ভাষা, সাহিত্য এবং ফেরদৌসীর মহাকাব্যিক কবিতা সংরক্ষণের ফলে ইরানি জাতির এমন এক সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে উঠেছে, যা বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছে।" তিনি ফেরদৌসীর বিখ্যাত পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, "যদি ইরান না থাকে, তবে আমার দেহও না থাকুক।" একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক মুসলিম দেশ সময়ের সঙ্গে নিজেদের মাতৃভাষা পরিত্যাগ করেছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। পরে বিভাগের শিক্ষকবৃন্দও বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

Dhaka Bangladesh

Dhaka Bangladesh

.

:

:

:

: