ইরান-পরবর্তী বাস্তবতা ও ফারসি ভাষা শিক্ষা নিয়ে মতবিনিময়
চট্টগ্রামে কওমি মাদরাসা ও এতিমখানা পরিদর্শন করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধি
বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের সম্মানিত প্রতিনিধি ড. সৈয়দ মাহদি আলী জাদেহ মুসাভি, বাংলাদেশে অবস্থিত ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর জনাব মাহদি মৌলায়ী আরানি এবং তাঁদের সফরসঙ্গীরা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফর করেন।
(দ্বিতীয় পর্ব): চট্টগ্রাম, ৪–৫ জুলাই ২০২৬: বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের সম্মানিত প্রতিনিধি ড. সৈয়দ মাহদি আলী জাদেহ মুসাভি, বাংলাদেশে অবস্থিত ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর জনাব মাহদি মৌলায়ী আরানি এবং তাঁদের সফরসঙ্গীরা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফর করেন।
সফরকালে প্রতিনিধি দল বিভিন্ন কওমি মাদরাসা ও একটি এতিমখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা আলেম-উলামা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানের পরিস্থিতি, মুসলিম ঐক্য এবং ফারসি ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
খরুলিয়ার তালিমুল কুরআন মাদরাসায় উষ্ণ অভ্যর্থনা
সফরের দ্বিতীয় দিনের প্রথম কর্মসূচি ছিল কক্সবাজারের খরুলিয়া তালিমুল কুরআন মাদরাসা পরিদর্শন। সেখানে প্রতিনিধি দলকে শিক্ষার্থীরা আন্তরিক ও উৎসাহব্যঞ্জক অভ্যর্থনা জানান। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা মনোযোগ সহকারে ড. সৈয়দ মাহদি আলী জাদেহ মুসাভির বক্তব্য শোনেন।
মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আবদুল্লাহর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত বৈঠকে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে ফারসি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থী ফারসি ভাষায় কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিত সবার প্রশংসা অর্জন করেন।
একটি এতিমখানার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
সফরের শেষ কর্মসূচি ছিল একটি এতিমখানা পরিদর্শন। প্রবল বর্ষণের মধ্যেও প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
এতিমখানার পরিবেশ আবেগঘন হলেও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শিশুদের সার্বিক বিকাশে দুটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। প্রথমত, সব শিশুর জন্য কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় ১০০ জন হাফেজে কুরআন গড়ে উঠেছেন। দ্বিতীয়ত, শিশুদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে দর্জির কাজসহ বিভিন্ন ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে নিজস্ব জীবিকা নির্বাহে সক্ষম হয়।
মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ
সফর শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধি ড. সৈয়দ মাহদি আলী জাদেহ মুসাভির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, মুসলিম ঐক্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদারে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
বিভিন্ন মাদরাসায় প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সহাবস্থানের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। আরবি ও ইংরেজি ভাষায় তাঁর দক্ষতা, আন্তরিক আচরণ এবং কার্যকর যোগাযোগের সক্ষমতা উপস্থিত আলেম ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ মতবিনিময়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া চট্টগ্রাম সফরের সার্বিক সমন্বয় ও সহযোগিতার জন্য জনাব আমজাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
.