আমেরিকা যদি অপকর্ম করে, তাহলে তারা শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণের শিকার হবে: সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আন্তর্জাতিক কুদস দিবসে ইরানি জাতির আবেগঘন এবং অর্থপূর্ণ পদযাত্রার প্রশংসা করেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আন্তর্জাতিক কুদস দিবসে ইরানি জাতির আবেগঘন এবং অর্থপূর্ণ পদযাত্রার প্রশংসা করেন।
আজ ঈদুল ফিতরের নামাজের খুতবায় তিনি বলেন: জাতির মহান ওই আন্দোলনে বিশ্বের সেইসব লোকদের জন্য বিভিন্ন বার্তা ছিল। ইরানি জাতিকে যাদের বোঝা প্রয়োজন এবং জানা প্রয়োজন, তাদের কানে সেইসব বার্তা পৌঁছে গেছে।
ঈদুল ফিতরের নামাজের দ্বিতীয় খুতবায় ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা রমজান মাসে গাজা ও লেবাননের ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের অব্যাহত গণহত্যা ও শিশুহত্যাকে মুসলিম জাতির তিক্ততার কারণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: ফিলিস্তিন দখলদার ওই অপরাধী চক্রের প্রতি আমেরিকার অব্যাহত সহায়তা ও সমর্থনের কারণেই এইসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের তথ্য ওয়েবসাইটের উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে আরও জানিয়েছে, তিনি ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থাকে এ অঞ্চলে উপনিবেশবাদীদের একটি প্রক্সি শক্তি বলে অভিহিত করেছেন। সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন: পশ্চিমারা বারবার এ অঞ্চলের সাহসী জাতি এবং উদ্যমী যুবকদেরকে প্রক্সি শক্তি হিসেবে অভিযুক্ত করে। অথচ এটা স্পষ্ট যে এ অঞ্চলের একমাত্র প্রক্সি শক্তি হল সেই দুর্নীতিগ্রস্ত ইসরাইল যারা আঞ্চলিক দেশগুলোর অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপকামী পরিকল্পনা অব্যাহত রেখেছে। এটা সেইসব দেশের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন যারা বিশ্বযুদ্ধের পর এ অঞ্চলের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ চালিয়েছে।
অর্থ ও গণমাধ্যম দিয়ে বিশ্ব শাসনকারী উপনিবেশবাদীদের সন্ত্রাসবিরোধী দাবির কথা উল্লেখ করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন: ওই একই লোকেরা একদিকে তাদের বক্তৃতায় একটি জাতির অধিকার ও ভূমি প্রতিরক্ষাকে সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধ বলে অভিহিত করে, আবার তারাই ইহুদিবাদীদের গণহত্যা এবং সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে অন্ধ থাকে অথবা তাদের সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে।
অবৈধ ইহুদিবাদী ওই শাসকগোষ্ঠী আবু জিহাদ, ফাতি শাকাকি, আহমেদ ইয়াসিন এবং ইমাদ মুগনিয়াহর মতো বিভিন্ন দেশের ব্যক্তিত্বদের হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে অভিযান চালিয়ে অসংখ্য ইরাকি বিজ্ঞানীদের হত্যা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন: আমেরিকাসহ বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ এই সুস্পষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে আর বাদবাকি বিশ্ব তাদের অপরাধযজ্ঞ চেয়ে চেয়ে দেখছে।
সর্বোচ্চ নেতা বলেন: দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে প্রায় ২০,০০০ ফিলিস্তিনি শিশুর শহীদ হয়েছে। মানবাধিকারের দাবিদাররা দেখেও দেখছে না। তাদের উদাসীনতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন: ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের জাতিগুলো এইসব অপরাধ সম্পর্কে যেটুকুই জানতে পেরেছে তাতেই তারা ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং আমেরিকার অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। যদি সম্পূর্ণ তথ্য তাদেরকে সরবরাহ করা হয়, তাহলে জাতিগুলো অবশ্যই তাদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ব্যাপক বৃদ্ধি করবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন: এই অপরাধী, দুষ্ট এবং খুনি গোষ্ঠীকে ফিলিস্তিনসহ এ অঞ্চল থেকে নির্মূল করতে হবে। সেই নির্মূলের কাজটি ঐশি ইচ্ছা ও শক্তির মাধ্যমেই ঘটবে। এ বিষয়ে চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া সকল মানুষের ধর্মীয় নৈতিক এবং মানবিক কর্তব্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ অঞ্চলের ব্যাপারে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের স্থিতিশীল অবস্থানের কথা উল্লেখ করে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন: আমাদের অবস্থান যেমন আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে তেমনি আমেরিকা এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের শত্রুতাও অতীতের মতোই অব্যাহত রয়েছে।
দ্বিতীয় খুতবার শেষে, আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকিমূলক অবস্থান সম্পর্কে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। প্রথমত, যদি কোনো বহির্শক্তি হামলা করার মতো কোনোরকম অপকর্ম করে, যার সম্ভবনা খুবই কম, তাহলে তারা অবশ্যই শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণের শিকার হবে। দ্বিতীয়ত, শত্রুরা যদি আগের বছরগুলোর মতো দেশের অভ্যন্তরে রাষ্ট্রদ্রোহিতা সৃষ্টির কথা ভাবে তাহলে জাতি সেই আগের মতোই রাষ্ট্রদ্রোহীদের কঠোর জবাব দেবে।
আজ সোমবার সকালে ঈদুল ফিতরের নামাজ স্মরণীয় জাঁকজমকের সাথে এবং সমগ্র ইসলামী ইরানের মুমিন ও সম্মানিত জাতির অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী তেহরানে, অসংখ্য মানুষ, আল্লাহর অনুগ্রহ ও সাহায্য লাভের আশাভরা হৃদয় নিয়ে, তেহরানের মোসাল্লায় এবং আশেপাশের রাস্তায় আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর ইমামতিতে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন।
নামাজের প্রথম খুতবায়, ইসলামী বিপ্লবের নেতা ইরানি জাতি ও ইসলামি উম্মাহকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান। তার পাশাপাশি ইরানি নববর্ষ নওরোজ এবং ১২ ফারভারদিন (ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে জাতির নির্বাচিত ব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করার মহান ঈদ) কেও অভিনন্দন জানান। তিনি এই বছরের রমজানকে জাতির রাজনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ঈমানী আন্দোলনের পাশাপাশি অন্তরাত্মিক ও আধ্যাত্মিকতা বিকাশের মাস বলে অভিহিত করেন।#
পার্সটুডে
.