এজেন্সি
ইরানি মৃৎশিল্প

ইরানি মৃৎশিল্প

ইরানি মৃৎশিল্প

সাধারণত আমরা মৃৎশিল্পকে ঐতিহ্যগত ইরানি হস্তশিল্পের একটি প্রধান শাখা হিসাবে বিবেচনা করতে পারি, যা সভ্যতার সূচনাকাল থেকেই বিদ্যমান এবং বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে এবং উন্নয়ন,উদ্ভাবন এবং সজ্জার ক্ষেত্রে এটিকে কেবল  গ্রীক ও চীনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কখন মাটির পাত্র তৈরি করা শুরু  হয়েছিল তা সঠিকভাবে জানা যায় না। ধারণা করা হয় যে, খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম থেকে পঞ্চম সহস্রাব্দের মধ্যে এর সূচনা হয়েছে,তবে এটি নিশ্চিত যে বেলুচিস্তান,কুর্দিস্তান এবং গিলানসহ ইরানের কিছু অংশ এই নৈপুণ্যের উদ্ভবের প্রধান ক্ষেত্র ছিল।

তদুপরি, ইরানি মালভূমির প্রথম বাসিন্দাদের দ্বারা আঁকা মৃৎশিল্পের কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেতে পারে যে ইরানিরা এই শিল্পে অন্যান্য জাতির থেকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল এবং এই উদ্ভাবন বিশেষভাবে তাদের দ্বারা উদ্ভাবিত হতে পারে।

হাখামানশি রাজবংশের উত্থানের সাথে সাথে মৃৎশিল্পের গভীর রূপান্তর ঘটেছে যার মধ্যে রয়েছে রাইটন এবং বিভিন্ন আকারের অন্যান্য পাত্র তৈরি করা যা এই সময়কাল থেকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

পার্থিয়ান যুগে মৃৎশিল্প ঐতিহ্যগত এবং বিশুদ্ধ ইরানি শিল্প হিসাবে বিকশিত হয়েছিল এবং ধীরে ধীরে ইউফ্রেটিস থেকে চীন,সাইবেরিয়া থেকে ভারতে এবং মঙ্গোলিয়ার উচ্চ মালভূমি থেকে বসফরাস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল,এমনকি ধারণা করা হয় যে এই শিল্পটি ইরান থেকে চীনে বিস্তৃত হয়েছে। এছাড়াও,কাঙ্গাভারে অবস্থিত অনাহিতা মন্দিরে খননকার্যের দ্বারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে,এই যুগে দুই ধরনের মৃৎপাত্রের থালা,বাটি ও জগ  প্রচলিত ছিল: এক ধরনের ছিল অচকচকে মৃৎপাত্র এবং আরেক ধরনের ছিল চকচকে মৃৎপাত্র যাতে লাল,ধূসর ও সবুজ মটর রংয়ের প্রলেপ দেওয়া হতো,সেই সাথে ক্ষারীয় চাকচিক্যপূর্ণ পাত্রও ছিল যা সাদা মাটির পাত্রের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

সাসানি যুগে মৃৎশিল্প হাখামানশি যুগের মতোই রয়ে গিয়েছিল এবং সাধারণত এর মধ্যে বাটি,বয়াম,জগ, ভাস্কর্য, থার্মোসেস এবং পাশাপাশি পশুপাখির ভাস্কর্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কখনও কখনও পাত্রগুলো প্রাচীন পাহলভি ক্যালিগ্রাফি দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছিল। বিশেষ করে সাসানিদের যুগের কুমোররা মাছ ও গবাদি পশুর মাথার ছবিসহ চকচকে থালা-বাসন,রুক্ষ মোটিফ দিয়ে সজ্জিত করে তৈরি করেছিল এবং এটি হাখামানশি ও পার্থিয়ান যুগ থেকে তাদেরকে আলাদা করে। সাসানি মৃৎশিল্পের সাধারণ মোটিফের-যা ইসলামি যুগের শিল্পকলার উপরও প্রভাবশালী ছিল-মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রথম লতাপাতা ফুল ইত্যাদির চিত্রবিচিত্র বক্ররেখা-বিজাড়িত অলংকরণ,ডানাওয়ালা প্রাণী, কিংবদন্তি পাখি এবং বিখ্যাত সাসানি ঈগল। বর্তমানে সাসানিদের আমলসহ বিভিন্ন যুগের বেশ কিছু মাটির পাত্র ইরানের জাতীয় জাদুঘরে রাখা আছে।

সেলজুক শাসনামলকে ইরানে ‘চীনামাটির পাত্রের স্বর্ণযুগ’ হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে,যেহেতু এই সময়ে সমস্ত পরিচিত প্রযুক্তিগত পদ্ধতি, যেমন  : নকশাকাটা, রিলিফ, জালিকাটা, গ্লাসের নিচে বা তার উপরে রঙিন খোদাই,সোনালি বার্নিশ এবং এনামেল কাজকে সাধারণত গ্রহণ করা হয়েছিল। সাফাভিদের যুগেও,শাহ আব্বাস দ্য গ্রেট ইরানি কুমোরদেরকে চীনামাটির কাজ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য চীনা কুমোরদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

বর্তমানে ইরানের কিছু অঞ্চলে, যেমন সিস্তান এবং বেলুচিস্তান প্রদেশের কালপোরগান গ্রামে যেখানে মৃৎশিল্পের ইতিহাস ৩০০০ বছর খ্রিস্টপূর্বাব্দের সাথে জড়িত সেখানে মোটিফ এবং সিরামিক বা মাটির পাত্র এখনও  সেই পুরানো এবং ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। এই এলাকায় পুরুষরা গাধার সাহায্যে খনি থেকে কাদা নিয়ে আসে। তারা  মণ্ড তৈরি করে এবং মাটির পাত্র আগুনে সেঁকে পাত্র তৈরি করে এবং বিভিন্ন ধরনের বাটি, রঙিন জগ, পানির পাত্র এবং অন্যান্য খাবার পাত্র সাপ্তাহিক বাজারে বিক্রি করে। গবেষকদের মতে, গিলান, সিস্তান ও বেলুচিস্তান, হামেদান, বিশেষ করে লালেজিন এবং শাহরেজা গ্রামের মৃৎশিল্পীরা ইরানের প্রাগৈতিহাসিক মৃৎশিল্পকে ইরানের বর্তমানকালের মৃৎশিল্পের সাথে যুক্ত করেছে।

ইরানি মৃৎশিল্প

ইসলামিক কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশন হল ইরানি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যেটি সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের সাথে অধিভুক্ত; এবং 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[আরও]

:

:

:

: