• Jul 6 2026 - 21:45
  • 48
  • : 2 minute(s)
“ইরানের প্রতিরোধ ও সহনশীলতা: বিশ্বের জন্য শিক্ষা”

শহীদ নেতার নেতৃত্বে ইরানের সহনশীলতা ও প্রতিরোধ নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক সেমিনার

: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত “ইরানের প্রতিরোধ ও সহনশীলতা: বিশ্বের জন্য শিক্ষা” শীর্ষক এক একাডেমিক সেমিনারে ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধ, জাতীয় প্রতিরোধ এবং বিজয়ের পেছনের বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ঢাকা, ০৬ জুলাই ২০২৬ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ইরানের প্রতিরোধ ও সহনশীলতা: বিশ্বের জন্য শিক্ষা” শীর্ষক এক একাডেমিক সেমিনারে ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধ, জাতীয় প্রতিরোধ এবং বিজয়ের পেছনের বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

সেমিনারে  বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্মানিত কালচারাল কাউন্সেলর জনাব মাহদি মৌলায়ী আরানি। তিনি বলেন, যে সময় ইরানের জনগণ তাদের শহীদ নেতা ও ইমামের শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারার বেদনায় শোকাহত ছিলেন, সেই সময়ই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের বিজয়ের কারণ এবং আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর নেতৃত্বের ভূমিকা তুলে ধরার সুযোগ পান।

বক্তব্যে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন, যুদ্ধের প্রথম ঘণ্টাতেই দেশের নেতা এবং বহু সামরিক কমান্ডার শহীদ হওয়ার পরও কীভাবে ইরানি জাতি যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয় অর্জন করল এবং আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী কীভাবে ইরানি জাতিকে এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।

তিনি বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী ইরানে এমন একটি মডেল বাস্তবায়ন করেছিলেন, যা অনুসরণ করলে যে কোনো মুসলিম দেশ বিজয়ের পথে অগ্রসর হতে পারে। তাঁর মতে, ইরানের সাম্প্রতিক বিজয়ের পেছনে দুটি প্রধান শক্তি কাজ করেছে কঠোর শক্তি (Hard Power) এবং নরম শক্তি (Soft Power)। তবে বিজয়ের মূল ভিত্তি ছিল নরম শক্তি, যার পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর চিন্তাধারার আলোকে গড়ে তোলা হয়।

তিনি আরও বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর পরিকল্পনায় ইরানের নরম শক্তি মূলত তিনটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

প্রথমত, আল্লাহর প্রতিশ্রুতির প্রতি দৃঢ় ঈমান ও বিশ্বাস। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইরানি জাতিকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যে, মৃত্যু জীবনের সমাপ্তি নয়; বরং শাহাদাত গৌরব ও সম্মানের বিষয়। একই সঙ্গে প্রকৃত শক্তি ও মর্যাদা একমাত্র আল্লাহর এবং আমেরিকা ও ইসরায়েলের শক্তি মাকড়সার জালের মতোই ভঙ্গুর এই বিশ্বাস জাতির মধ্যে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি অন্যায়, জুলুম ও আগ্রাসনের কাছে কখনো আত্মসমর্পণ না করার মানসিকতাও জাতীয় চেতনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ফারসি ভাষা ও সাহিত্যকে সংরক্ষণ ও বিকশিত করা। তিনি বলেন, একটি জাতির পরিচয়, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনা গঠনে সাহিত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বিখ্যাত ফারসি পঙ্ক্তি ” چون ایران نباشد تن من مباد উল্লেখ করে বলেন, যার অর্থ "যদি ইরান না থাকে,তবে আমার দেহও না থাকুক।"এ ধরনের সাহিত্য ও কবিতা দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় ঐক্যের চেতনাকে শক্তিশালী করে।

তৃতীয়ত, গৌরবময় হাজার বছরের ইতিহাসকে জীবন্ত রাখা। তিনি বলেন, ইরানি জাতি তাদের সুদীর্ঘ ইতিহাস ও সভ্যতা নিয়ে গর্ববোধ করে। ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তারা বিদেশি আগ্রাসন ও শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং একটি স্বাধীন, অখণ্ড ও ঐক্যবদ্ধ ইরান রক্ষায় সংগ্রাম করেছে। এই ঐতিহাসিক চেতনা জাতীয় প্রতিরোধ ও সহনশীলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

বক্তব্যের শেষে জনাব মাহদি মৌলায়ী আরানি বলেন, ইরানের অভিজ্ঞতা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি আদর্শ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং জাতীয় পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা নরম শক্তিই একটি জাতিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রতিরোধ ও বিজয়ের পথে এগিয়ে নিতে পারে।

Dhaka Bangladesh

Dhaka Bangladesh

.

:

:

:

: