• Jul 22 2026 - 14:54
  • 13
  • : 2 minute(s)
সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও জ্ঞানভিত্তিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ

বাংলাদেশে ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরের সঙ্গে ‘দাওয়াতি মিশন’ সংগঠনের সদস্যদের সাক্ষাৎ

সাক্ষাৎকালে সংগঠনের সদস্যরা সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরের কাছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর দপ্তরের ‘নিউজলেটার’ প্রকাশনার ধারাবাহিকতা পুনরায় বজায় রাখা এবং নিয়মিত আলোচনা সভাগুলো পুনরায় চালু করা, যাতে পারস্পরিক পরিচিতি, জ্ঞান বিনিময় ও যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হয়।

5976363137902514205

ঢাকা, ১6 জুলাই ২০২৬: বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্মানিত কালচারাল কাউন্সেলর জনাব মাহদি মোলায়ী আরানি-র সঙ্গে ‘দাওয়াতি মিশন’ সংগঠনের সদস্যদের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে বিগত বছরগুলোতে সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরের বিভিন্ন কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব, এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

দাওয়াতি মিশনের সদস্যরা জানান, বহু বছর আগে সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরের নিয়মিত আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর দপ্তর থেকে প্রকাশিত ‘নিউজলেটার’ তাদের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তীতে পাঁচটি ভাষায় দক্ষ জনাব আলতাফ হোসেন-এর পিতৃসুলভ দিকনির্দেশনায় তারা ১৯৯৭ সাল থেকে নিজেদের কার্যক্রমের জন্য একটি নতুন পথ বেছে নেন এবং ‘মিশন দাওয়াত’ নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।

সংগঠনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সততা, নিষ্ঠা, নিয়মিত সাপ্তাহিক ও পারিবারিক সভার আয়োজন এবং পারিবারিক পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা। বর্তমানে প্রায় ২০০টি পরিবার এসব কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে ১৬টি বই অনুবাদ ও প্রকাশনা।

সাক্ষাৎকালে সংগঠনের সদস্যরা সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরের কাছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর দপ্তরের ‘নিউজলেটার’ প্রকাশনার ধারাবাহিকতা পুনরায় বজায় রাখা এবং নিয়মিত আলোচনা সভাগুলো পুনরায় চালু করা, যাতে পারস্পরিক পরিচিতি, জ্ঞান বিনিময় ও যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হয়।

কালচারাল কাউন্সেলর মাহদি মোলায়ী আরানি উপস্থিত সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর ইরান, মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সৃষ্ট পরিবর্তন সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো ইরান কীভাবে বিশ্বের দুই পরাশক্তির সামনে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখে প্রতিরোধ ও সাফল্য অর্জন করেছে। মানুষের প্রশ্ন ও বাস্তবতা পরিবর্তিত হলে আমাদের কর্মসূচিগুলোকেও নতুন বাস্তবতার আলোকে সাজাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনের কৃত্রিম শক্তি ও ভীতির ভাবমূর্তি জনমনে দুর্বল হয়ে পড়া সাম্প্রতিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল। এই মানসিক পরিবর্তন অনেক ক্ষেত্রে সামরিক আঘাতের চেয়েও গভীর প্রভাব সৃষ্টি করে। তবে এই সচেতনতা তৈরির পেছনে ইরানকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে; দেশের নেতৃত্ব, অসংখ্য শিশু এবং সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই অর্জন এসেছে। তাই এই অর্জন সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাহদি মোলায়ী আরানি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন পরিচয় ও ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অতীতের ইরান ও শিয়া মতবাদকে শত্রু হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা এবং ইরানভীতির মতো ধারণা অতিক্রম করে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

তিনি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংস্কৃতি ও অর্থনীতির মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Dhaka Bangladesh

Dhaka Bangladesh

.

:

:

:

: