• Jul 23 2026 - 13:56
  • 18
  • : 1 minute(s)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ: শতবর্ষের ঐতিহ্যের ধারক

বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ফারসি ভাষা ও সাহিত্য। এ প্রেক্ষাপটে ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর জনাব মাহদি মৌলায়ী আরানি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

WhatsApp Image 2026-07-23 at 3.52.27 PM

ঢাকা, ১৬ জুলাই ২০২৬: অনুষ্ঠানে বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম খান বিভাগের ইতিহাস ও বিকাশ সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভাগের যাত্রা শুরু, যার ইতিহাস প্রায় ১০৩ বছরের। প্রথমদিকে বিভাগটি উর্দু ভাষার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হতো এবং তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে বিভাগের নামেও উর্দুর উল্লেখ ছিল। ২০০২ সালে বিভাগের নাম পরিবর্তন করা হয় এবং ২০০৬ সালে এটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ নাম ধারণ করে।

ড. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ফারসি ভাষার মর্যাদা ও প্রসারে ইরানের ইসলামী বিপ্লব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিপ্লব-পূর্ব সময়ে অনেক বছর শিক্ষার্থী ভর্তি অত্যন্ত সীমিত ছিল, এমনকি কোনো কোনো বছর একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হতেন না। পরবর্তীকালে ফারসি ভাষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তিনি আরও বলেন, ফারসি ভাষা শিক্ষা ও এর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে ইরানের সাংস্কৃতিক পরামর্শ দপ্তর (রায়যানী-এ ফারহাঙ্গী)-এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিভাগীয় প্রধান ড. মুমিত আল রশিদ বিভাগের বর্তমান কার্যক্রম ও একাডেমিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে বিভাগে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০৩ জন। চলতি শিক্ষাবর্ষে ৭৪ জন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৬৬ জন নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিচ্ছে। বর্তমানে ৪৬ জন শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত। যদিও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এখনো থিসিসের সুযোগ নেই, বিভাগ এ ব্যবস্থা চালুর জন্য কাজ করছে। এছাড়া প্রাক-ডক্টরাল পর্যায়ে ৬ জন এবং পিএইচডি পর্যায়ে ১ জন গবেষক অধ্যয়ন করছেন।

কালচারাল কাউন্সেলর জনাব মাহদি মৌলায়ী আরানি বিভাগের উন্নয়নে অবদান রাখা সকল শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইসলামী বিপ্লব যেমন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করেছিল, তেমনি ফারসি ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী বিপ্লবের শহীদ নেতার শাহাদাতও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। তাঁর মতে, ইরানের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।

তিনি ফারসি ভাষা ও সাহিত্যচর্চা আরও বিস্তৃত করতে উভয় পক্ষের সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি, একাডেমিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

Dhaka Bangladesh

Dhaka Bangladesh

.

:

:

:

: