বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক উন্নয়নে গণমাধ্যম, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরের সাক্ষাৎ
জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের গণমাধ্যম পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একে অপরের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পারে।
ঢাকা: বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের সম্মানিত সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর জনাব মাহদি মৌলায়ী আরানি বাংলাদেশের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার সঙ্গে জাতীয় প্রেস ক্লাব ভবনে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।
মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬ জাতীয় প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইরানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, গণমাধ্যম সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরকে আন্তরিক স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ইরান বাংলাদেশের একটি বন্ধুপ্রতিম ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে বিদ্যমান বন্ধন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ঐতিহ্যের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের গভীর আগ্রহ ও সম্মান রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, ইরান শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ এবং বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার ধারক। বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সহযোগিতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর মাহদি মৌলায়ী আরানি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক বিদ্যমান। তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের গণমাধ্যম পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একে অপরের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পাশাপাশি স্থানীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ ও ইরানের জনগণ পরস্পরের সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ তথ্য জানতে পারবে।
বৈঠকে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ইরানে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সংবাদ ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং দুই দেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
.